বহমানতায়
এই বহমানতায় চাঁদ যায় আপন আলয়ে, নিকটতম কৃষ্ণকুটিরে।
অধিগ্রহণের যাপনকক্ষ থেকে যতটা যৌবন সে দেখায়,
দেখি তার হেসে ওঠা উচ্ছল আব্রু, ভেঙে আসা দেওয়াল রেখায়।
আর এই জ্যোতস্না যখন ধুয়ে নিয়েছে মধুময় স্বপ্নচারনা,
মহারাত্রির অধিক্ষণে, মোহনরতি পরবরদিগর, হে নক্ষত্ররানী,
এ সেই নিশিযাপনের চন্দ্র—যার একাধিকপক্ষ কেটে যাবে বলে,
লৌহবাসরঘর আর উত্তরপুরুষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ফেলে আসা কালকে ছুঁয়ে,
মহাপ্রস্থানের চলে যাওয়া ও বহমানতার অবিরত গতি জানি—
আজ অনিশ্চয়তার সংকটপ্রহরে সে লুকিয়েছে নিজের লজ্জা।
শুধু জেগে আছে সত্য ও প্রদীপ নিয়ে এক গাঙুড়ের নিমগ্ন প্রবাহ,
নদী বক্ষে ভেসে যায় উত্তাল উর্মিমালা সহ আমার দাম্পত্য।
যদি নভমণ্ডল সত্য হয়, যদি নদীতরঙ্গ সত্য হয়, যদি ধ্রুবতারা সত্য হয়,
তবে মধুচন্দ্রিমা যাপনের এই মহাক্ষণ হোক জ্যোতস্নাবিহারের,
নিথর সোয়ামি সোহাগে তুমি জেনো—আমার চুম্বনের শেষ নেই।
এই আকাশ এবং ধ্রুবতারা সত্য, ঠিক যেমন আমার জীবন ধ্বন্দ্বে ভরা।
তবুও আমার হৃদয় উচ্ছ্বাসে ভরে, গাঙুড়ের জল-সত্য যেন আমার বিশ্ব।
ওগো মাতা, এই ঘাটমাঠায় দৃষ্টি ফেরাও ক্ষণিক এই বঙ্গনারীর সংকল্পে।
কে তুমি? কী করছ নরী? জীবন যেন আবারও উদিত হয় তোমার চোখে।
এখন যৌবন আর নারী চোখ মেলেছে, অতলাঙ্ত ঢেউয়ের সঙ্গে নদী খেলে।
তোমার সংসার নেই? আছে, আকাশবাতাসই আমার অন্তরমূল সংসার।
পৃথিবীর আঁকড়ে ধরা আঘাত নয়, শরীরে প্রেম আর যন্ত্রণা ভাসে।
সেই প্রেম দিয়েই গড়া হবে নতুন আলোর তারাভুবন পৃথিবীতে।
এই নদীর ঢেউ আর আকাশের শ্বাস—সব যাত্রাই বয়ে চলে আমার সংসারে।
ভালবাসা, কষ্ট, দৃষ্টি, স্বপ্ন সবাই এক প্রবাহের অংশ হয়ে বয়ে যায়।
তুমি আর আমি মিশে আছি ওই জলের মতো, অমল ধারার স্রোতে।
এই বলে রজনীর অবসান ঘটে, কামনার সাথে আজকের সাইনঅফ করি।
হে মণসা, আমার কাজের প্রতি সকল প্রতিক্রিয়া প্রার্থনা করি।
সম্পন্নতার পরিণতি নিয়ে পর্যালোচনা করো, কাঁটাছেঁড়া থাক হাতেখড়ি।
হে স্মৃতিমেদুর স্রোতবাহী নদী, বাংলার বুকে তোমার তরঙ্গ উঠল আজ।
অক্ষরের ওজন নেমে আসুক, কাজের দায়ভার ঠিকমতো মাপা হোক।
যদি ত্রুটি ঢেকে রাখে স্বপ্নের অন্ধকার, আলো মাথা তুলে দাঁড়াক।
গোপন বেদনা বাজুক পাঠকের শিরায়, পৌঁছে যাক নিঃশব্দ অভিসারীতে।
অন্তিমে, আমার লেখা বাড়ুক শস্যদানের মতো, শত ফুলের প্রক্ষালন হোক ধীরে।
Comments
Post a Comment