বসন্তসেনা


তোমায় দেখলেই তানপুরার নিবিড়ে যেমন মীড় জাগে, তেমনই এই শরীরে জেগে ওঠে কাম এবং সেই সহস্রাক্ষ পিপাসা থেকে ক্রমে ক্রমে সহস্রার...

তুমি আছো বলেই বুঝতে পারি, আমি আসলে উভকামী। শুধু তোমাকে পেলাম না তাই পরীক্ষিত হলাম না; সতী সাধ্বী ছদ্মবেশে, একটু আধটু মুদ্রাদোষে কেটে গেল জীবন।
অয়ি বসন্তসেনা, তোমাকে পেলে তো একটা অন্য বা অনন্য জীবন হতে পারতো, বল। তোমার ঠোঁট যখন ভ্যানিলাশ্লেষে চেটে নিতাম তখন সেতারাতরে রাত কাবার হয়ে যেত না?
তোমার মৃদু হাসি, অল্প ঠোঁট কামড়ে মরালী গ্রীবার প্রণতি, বালার্কের প্রথম স্তিমিত চুমুস্নাত হয়ে তরল অন্ধকার যেমন ধীরে ধীরে অপসৃত হয় তেমন করে তোমার চোখ নামিয়ে নেওয়া, আবার দিঘির হৃদয় থেকে গভীর রোহিতের ঘাই মারার মতো নয়ন দুটি মেলে প্রণয়ীর নিভৃতটুকু নিংড়ে নেওয়া,
হে কৃষ্ণাঙ্গী, পীনোন্নতা, মীনাক্ষী, তোমার দৃষ্টি দিয়ে পান কর আমায়। হে উন্নতবক্ষা, আমি যদি তোমার বক্ষপাখিদুটির ঠোঁট কামড়ে দিই, সবাই বলবে বটতলার কাব্য লিখছে কিন্তু যদি ইংরেজিতে লিখি, আমি তোমার তলপেটের নিম্নদেশের পানপাতায় রক্তাক্ত চুনিচুমুর সুপুরি বিছিয়ে দিতে চাই, তখন তেনারা বলবেন, 'অহো! এই হল বিশ্বসাহিত্যের নমুনা!'
হে মৃন্ময়ী, এই গ্যাদগেদে মিডিওকার একঘেয়ে সর্বক্ষণ ভ্যালিডেশনের অর্গ্যাজমে ডুবে থাকা জীবনকে লাথ মেরে আমাদের তো একটা নিজস্ব জীবন হতে পারতো বসন্তসেনা, পারতো না?
এখানে না হোক, সোলারিসে থাকত। সেখানে একটা নিধুবন সিম্যুলেট করে নিতাম। তাতে একটা কৃষ্ণচূড়া গাছের তলায় তোমার কোলে মাথা রেখে আমি শুয়ে থাকতাম। তুমি বিলি কেটে দিতে, আমি আদর খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়তাম, আমার মাথায় মুখে তোমার আঙুল আর এলোকেশ কলকা এঁকে দিত, তার নীচে ফোঁটা ফোঁটা কৃষ্ণচূড়ার রক্ত- পাপড়ি।
আর ঐ মুহুর্তেই যদি আমার নিদ্রালু ওষ্ঠে বিষের ঝিনুক ধরতে তুমি, আহা, কী সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে ব্যাপারটাই না হোত! তোমার সঙ্গে সোলারিসেই বাঁধা পড়ে থাকতাম। তোমাতেই লয় পেয়ে যেতাম। এ লেখা আমায় থামাতে হোত না। আবার এই গ্যাদগ্যাদে পৃথিবীতে চোখ মেলতে হোত না। কতগুলো দেঁতো লোকের সঙ্গে দেঁতোমি করতে হোত না।
অয়ি বসন্তসেনা, আমাদের তো একটা জীবন না হোক, মৃত্যুও হতে পারতো।
হে সালঙ্কারা, মুগ্ধমোহিতা, জীবনে হাজারো খোয়াইশে রয়ে গেল, থাক, কিন্তু তোমাকে পাওয়া হল না, পাওয়া হবে না, আমাদের রক্ত ঘাম লালা, জলমূর্ছনা কোনদিন একস্রোতে বইল না, বইবে না,আমার কোন কবিতার প্রথম পংক্তি তোমার অন্ত্যমিলে মথিত হল না, হবে না, আমার প্রতিটি গান যে তোমার দিকে ধাবিত হয়েও গাব গাছের আঠায় জড়িয়ে গেল, এ দু:খের অতীত দু:খ বয়ে নিয়ে চলতে হবে যে সারা জীবন... আহা! কী প্রণম্য এ শাস্তি।
এমন অক্ষয় শাস্তি যেন চিরকাল যক্ষরা পায় আর লিখে যায় এক একটা করে মেঘদূত। যক্ষ তো অলকাপুরবাসিনীর আস্বাদ পেয়েছিল, আমি কী পেলাম, অয়ি বসন্তসেনা, অবভাস? ছায়াসঞ্চয়িতা? তাহলে তো আমার কাব্য আরও মহৎ, আরও বিধুর হৃদয়ছেঁড়া হওয়ার কথা, সে কী আর লেখা হবে? কোনদিন?
মাকড়সার জালে যখন সূর্যালোক পড়ে, সে মহতী আলোর বিশ্লেষে ঐ ঘৃণিত জালও রামধনু রঙা রেশম- জালিকার বিভ্রম তৈরি করে। আমার মতো সামান্য মানুষী একদিন তোমাকে নিয়ে এক অনবদ্যাঙ্গী দিগবলয়চুম্বী মহাকাব্য লিখবে, এটুকু বিভ্রম অন্ততঃ মূর্ত, প্রশান্ত ও স্থগিত থাক।
এসো তোমায় দেখলেই তানপুরার নিবিড়ে যেমন মীড় জাগে, তেমনই এই শরীরে জেগে ওঠে কাম এবং সেই সহস্রাক্ষ পিপাসা থেকে ক্রমে ক্রমে সহস্রার...

তুমি আছো বলেই বুঝতে পারি, আমি আসলে উভকামী। শুধু তোমাকে পেলাম না তাই পরীক্ষিত হলাম না; সতী সাধ্বী ছদ্মবেশে, একটু আধটু মুদ্রাদোষে কেটে গেল জীবন।
অয়ি বসন্তসেনা, তোমাকে পেলে তো একটা অন্য বা অনন্য জীবন হতে পারতো, বল। তোমার ঠোঁট যখন ভ্যানিলাশ্লেষে চেটে নিতাম তখন সেতারাতরে রাত কাবার হয়ে যেত না?
তোমার মৃদু হাসি, অল্প ঠোঁট কামড়ে মরালী গ্রীবার প্রণতি, বালার্কের প্রথম স্তিমিত চুমুস্নাত হয়ে তরল অন্ধকার যেমন ধীরে ধীরে অপসৃত হয় তেমন করে তোমার চোখ নামিয়ে নেওয়া, আবার দিঘির হৃদয় থেকে গভীর রোহিতের ঘাই মারার মতো নয়ন দুটি মেলে প্রণয়ীর নিভৃতটুকু নিংড়ে নেওয়া,
হে কৃষ্ণাঙ্গী, পীনোন্নতা, মীনাক্ষী, তোমার দৃষ্টি দিয়ে পান কর আমায়। হে উন্নতবক্ষা, আমি যদি তোমার বক্ষপাখিদুটির ঠোঁট কামড়ে দিই, সবাই বলবে বটতলার কাব্য লিখছে কিন্তু যদি ইংরেজিতে লিখি, আমি তোমার তলপেটের নিম্নদেশের পানপাতায় রক্তাক্ত চুনিচুমুর সুপুরি বিছিয়ে দিতে চাই, তখন তেনারা বলবেন, 'অহো! এই হল বিশ্বসাহিত্যের নমুনা!'
হে মৃন্ময়ী, এই গ্যাদগেদে মিডিওকার একঘেয়ে সর্বক্ষণ ভ্যালিডেশনের অর্গ্যাজমে ডুবে থাকা জীবনকে লাথ মেরে আমাদের তো একটা নিজস্ব জীবন হতে পারতো বসন্তসেনা, পারতো না?
এখানে না হোক, সোলারিসে থাকত। সেখানে একটা নিধুবন সিম্যুলেট করে নিতাম। তাতে একটা কৃষ্ণচূড়া গাছের তলায় তোমার কোলে মাথা রেখে আমি শুয়ে থাকতাম। তুমি বিলি কেটে দিতে, আমি আদর খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়তাম, আমার মাথায় মুখে তোমার আঙুল আর এলোকেশ কলকা এঁকে দিত, তার নীচে ফোঁটা ফোঁটা কৃষ্ণচূড়ার রক্ত- পাপড়ি।
আর ঐ মুহুর্তেই যদি আমার নিদ্রালু ওষ্ঠে বিষের ঝিনুক ধরতে তুমি, আহা, কী সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে ব্যাপারটাই না হোত! তোমার সঙ্গে সোলারিসেই বাঁধা পড়ে থাকতাম। তোমাতেই লয় পেয়ে যেতাম। এ লেখা আমায় থামাতে হোত না। আবার এই গ্যাদগ্যাদে পৃথিবীতে চোখ মেলতে হোত না। কতগুলো দেঁতো লোকের সঙ্গে দেঁতোমি করতে হোত না।
অয়ি বসন্তসেনা, আমাদের তো একটা জীবন না হোক, মৃত্যুও হতে পারতো।
হে সালঙ্কারা, মুগ্ধমোহিতা, জীবনে হাজারো খোয়াইশে রয়ে গেল, থাক, কিন্তু তোমাকে পাওয়া হল না, পাওয়া হবে না, আমাদের রক্ত ঘাম লালা, জলমূর্ছনা কোনদিন একস্রোতে বইল না, বইবে না,আমার কোন কবিতার প্রথম পংক্তি তোমার অন্ত্যমিলে মথিত হল না, হবে না, আমার প্রতিটি গান যে তোমার দিকে ধাবিত হয়েও গাব গাছের আঠায় জড়িয়ে গেল, এ দু:খের অতীত দু:খ বয়ে নিয়ে চলতে হবে যে সারা জীবন... আহা! কী প্রণম্য এ শাস্তি।
এমন অক্ষয় শাস্তি যেন চিরকাল যক্ষরা পায় আর লিখে যায় এক একটা করে মেঘদূত। যক্ষ তো অলকাপুরবাসিনীর আস্বাদ পেয়েছিল, আমি কী পেলাম, অয়ি বসন্তসেনা, অবভাস? ছায়াসঞ্চয়িতা? তাহলে তো আমার কাব্য আরও মহৎ, আরও বিধুর হৃদয়ছেঁড়া হওয়ার কথা, সে কী আর লেখা হবে? কোনদিন?
মাকড়সার জালে যখন সূর্যালোক পড়ে, সে মহতী আলোর বিশ্লেষে ঐ ঘৃণিত জালও রামধনু রঙা রেশম- জালিকার বিভ্রম তৈরি করে। আমার মতো সামান্য মানুষী একদিন তোমাকে নিয়ে এক অনবদ্যাঙ্গী দিগবলয়চুম্বী মহাকাব্য লিখবে, এটুকু বিভ্রম অন্ততঃ মূর্ত, প্রশান্ত ও স্থগিত থাক।
এসো বসন্তসেনা, আমাতে উপগত হও। চৌষট্টির পর থেকে আমাদের অদ্ভুত অপার্থিব অদৃষ্ট ও অশ্রুতপূর্ব লীলা আরম্ভ হোক।





আমাতে উপগত হও। চৌষট্টির পর থেকে আমাদের অদ্ভুত অপার্থিব অদৃষ্ট ও অশ্রুতপূর্ব লীলা আরম্ভ হোক।





Comments

Popular posts from this blog

বেহুলা

বহমানতায়

বেহুলার