পলাশ

পলাশ ছড়ানো রেললাইন ছাড়িয়ে,

বেহুলার নৌকা নিয়ে অজানা দেখা স্বপ্নে,
সপ্তজনমের বন্ধন বেঁধেছে সে একা,
অপার্থিব স্টেশন পেরিয়ে নীলিমার আকাশে উড়ে যায় তার আশা।

ঝরা পলাশের ভাস্কর্যের মাঝখানে,
মুঘল সম্রাটের দরবার শুনে চুপ করে গোছায় তার শব্দ,
বেড়াজালে বন্দি জীবন, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার খেলা,
যেখানে দেবতাদের অম্লান প্রতীক্ষায় বাঁধা তার জীবনের গান।

যমুনার অন্ধকারে পচনের জ্বালা মুছে,
প্রযুক্তির বাক্স ভেঙে শিশিরের কান্না শোনে,
সি-আর-পার্কের রঙিন পাখির সুরে ডুবে সুর বাজায়,
বেহুলার পথ চিরন্তন, যেখানে সত্যি আর মিথ্যার খেলা হয়।

রাজধানী এক্সপ্রেসে কবি দেবব্রত ও ভারতী সরকারের সঙ্গে,
জীবনের সুরে মিশে যায় গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের রাগ,
চিত্ররঞ্জন পার্কের পাখিদের সিম্ফনিতে নৃত্য করে তার মন,
হাইকুর ছোঁয়ায় পুরাণের আখ্যান হয়ে ওঠে জীবন্ত কাব্য।

বানজারা জনপদ থেকে দরিয়াগঞ্জ, গাজিয়াবাদের গন্ধ ছুঁয়ে,
দিল্লি হাটের আড্ডায় মিলিয়ে যায় নদীর গল্প,
পলাশ মেঘলা মোড়ে চিন্ময়ী বনে শান্তির ধ্বনি,
যেখানে শহর ঘুমায়, আর রেলের ধুলোর মাঝে জেগে ওঠে বেহুলার সপ্ন।

রান্নাঘরের ভায়োলিন বাজাতে বাজাতে,
বজ্রবিদ্যুৎ ডাকে বসন্তের পাহারা,
বেহুলার হাতে মশলার তেলে মুছে যায় শবদেহের হল্লা,
যেখানে ইতিহাস নীলিমার মাঝে গানের মতো বাঁধা।

সিগারেটের আগুন মোটে হ্লাস,
আঁধারে চায়ের কাপে বয়ে যায় জীবনের কান্না,
আড্ডার আলোয় জ্বলে ওঠে দিল্লির কবিদের বেদনা,
বেহুলার বিশ্বাসে ছড়ায় এক নতুন বসন্তলিপি।

রিক্সার চলন্ত রাস্তায় ধান-সমুদ্রের গন্তব্য,
লুভর থেকে আইফেল, কৈলাস থেকে বিকাশের বাসা,
বন্যপ্রাণীর আনাগোনা মধ্য দিয়ে গানের গোধূলি বাজায়,
পথের কথায়, হাসির সুরে, বেহুলার কবিতা হয় হাতে লেখা ইতিহাস।

এই সব ছন্দে, বেহুলার সিংহাসনে বসে,
বিড়াল ছুটে আসে স্বপ্নের আলোর পানে,
সেই নারী, যার স্বপ্ন অনতিদূর—
তার জীবনের যাত্রা, মানুষ বললো এক মায়াবী গদ্যের কবিতা।পলাশ ছড়ানো রেললাইন ছাড়িয়ে,
বেহুলার নৌকা নিয়ে অজানা দেখা স্বপ্নে,
সপ্তজনমের বন্ধন বেঁধেছে সে একা,
অপার্থিব স্টেশন পেরিয়ে নীলিমার আকাশে উড়ে যায় তার আশা।

ঝরা পলাশের ভাস্কর্যের মাঝখানে,
মুঘল সম্রাটের দরবার শুনে চুপ করে গোছায় তার শব্দ,
বেড়াজালে বন্দি জীবন, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার খেলা,
যেখানে দেবতাদের অম্লান প্রতীক্ষায় বাঁধা তার জীবনের গান।

যমুনার অন্ধকারে পচনের জ্বালা মুছে,
প্রযুক্তির বাক্স ভেঙে শিশিরের কান্না শোনে,
সি-আর-পার্কের রঙিন পাখির সুরে ডুবে সুর বাজায়,
বেহুলার পথ চিরন্তন, যেখানে সত্যি আর মিথ্যার খেলা হয়।

রাজধানী এক্সপ্রেসে কবি দেবব্রত ও ভারতী সরকারের সঙ্গে,
জীবনের সুরে মিশে যায় গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের রাগ,
চিত্ররঞ্জন পার্কের পাখিদের সিম্ফনিতে নৃত্য করে তার মন,
হাইকুর ছোঁয়ায় পুরাণের আখ্যান হয়ে ওঠে জীবন্ত কাব্য।

বানজারা জনপদ থেকে দরিয়াগঞ্জ, গাজিয়াবাদের গন্ধ ছুঁয়ে,
দিল্লি হাটের আড্ডায় মিলিয়ে যায় নদীর গল্প,
পলাশ মেঘলা মোড়ে চিন্ময়ী বনে শান্তির ধ্বনি,
যেখানে শহর ঘুমায়, আর রেলের ধুলোর মাঝে জেগে ওঠে বেহুলার সপ্ন।

রান্নাঘরের ভায়োলিন বাজাতে বাজাতে,
বজ্রবিদ্যুৎ ডাকে বসন্তের পাহারা,
বেহুলার হাতে মশলার তেলে মুছে যায় শবদেহের হল্লা,
যেখানে ইতিহাস নীলিমার মাঝে গানের মতো বাঁধা।

সিগারেটের আগুন মোটে হ্লাস,
আঁধারে চায়ের কাপে বয়ে যায় জীবনের কান্না,
আড্ডার আলোয় জ্বলে ওঠে দিল্লির কবিদের বেদনা,
বেহুলার বিশ্বাসে ছড়ায় এক নতুন বসন্তলিপি।

রিক্সার চলন্ত রাস্তায় ধান-সমুদ্রের গন্তব্য,
লুভর থেকে আইফেল, কৈলাস থেকে বিকাশের বাসা,
বন্যপ্রাণীর আনাগোনা মধ্য দিয়ে গানের গোধূলি বাজায়,
পথের কথায়, হাসির সুরে, বেহুলার কবিতা হয় হাতে লেখা ইতিহাস।

এই সব ছন্দে, বেহুলার সিংহাসনে বসে,
বিড়াল ছুটে আসে স্বপ্নের আলোর পানে,
সেই নারী, যার স্বপ্ন অনতিদূর—
তার জীবনের যাত্রা, মানুষ বললো এক মায়াবী গদ্যের কবিতা।


ঝরঝরে বৃষ্টি পড়ে বেহুলার হৃদয়ে,
লখিন্দরের চলে যাওয়ার অকাল বিদায়ে—
একটি শূন্যতার ছায়া,
যা ঘিরে ধরেছিল তার মনের কোণা,
অদৃশ্য সুর হিসেবে বাজছিল দূর্দশার গান।

সে রাত, যখন গঙ্গার জল কাঁদছিল,
স্বামীর মৃতদেহ ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া নৌকোটির প্রতি,
বেহুলার কাঁধে নেমে এসেছিল একাকিত্বের ভার।
যে ভারের তলিয়ে ছিল নিঃস্বত্বা আর ভয়—
একলা হয়ে যাওয়ার, পথ হারানোর।

সমাজের চোখে সে ছিল বিধবা,
ব্যক্তিত্বের আবরণ ছিঁড়ে গেছেন সমাহারের তীব্রতা।
আত্মবিশ্বাসের ডালপালা ভেঙে,
হৃদয়ের খেয়াকে তোলপাড় করেছিল সন্দেহ এবং অবহেলা।
সেই কান্নার মাঝেও
বেহুলার চোখে জ্বলছিল একটি ছোট দীপ,
যা দোঁহে পোড়ানো রাতেও রেহাই দিত স্বপ্নের আশায়।

লখিন্দরের অকাল মৃত্যুর ধাক্কা,
সে শুধু ক্ষতির গল্প নয়,
এক নারীর আত্মা জাগ্রত করার ডাক,
যেখানে দুর্বলতা মিশে যায়
অপার সাহসের স্রোতে,
বেহুলার পথ যেন হয়ে ওঠে এক নতুন প্রভাতের সূচনা।ঝরঝরে বৃষ্টি পড়ে বেহুলার হৃদয়ে,
লখিন্দরের চলে যাওয়ার অকাল বিদায়ে—
একটি শূন্যতার ছায়া,
যা ঘিরে ধরেছিল তার মনের কোণা,
অদৃশ্য সুর হিসেবে বাজছিল দূর্দশার গান।

সে রাত, যখন গঙ্গার জল কাঁদছিল,
স্বামীর মৃতদেহ ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া নৌকোটির প্রতি,
বেহুলার কাঁধে নেমে এসেছিল একাকিত্বের ভার।
যে ভারের তলিয়ে ছিল নিঃস্বত্বা আর ভয়—
একলা হয়ে যাওয়ার, পথ হারানোর।

সমাজের চোখে সে ছিল বিধবা,
ব্যক্তিত্বের আবরণ ছিঁড়ে গেছেন সমাহারের তীব্রতা।
আত্মবিশ্বাসের ডালপালা ভেঙে,
হৃদয়ের খেয়াকে তোলপাড় করেছিল সন্দেহ এবং অবহেলা।
সেই কান্নার মাঝেও
বেহুলার চোখে জ্বলছিল একটি ছোট দীপ,
যা দোঁহে পোড়ানো রাতেও রেহাই দিত স্বপ্নের আশায়।

লখিন্দরের অকাল মৃত্যুর ধাক্কা,
সে শুধু ক্ষতির গল্প নয়,
এক নারীর আত্মা জাগ্রত করার ডাক,
যেখানে দুর্বলতা মিশে যায়
অপার সাহসের স্রোতে,
বেহুলার পথ যেন হয়ে ওঠে এক নতুন প্রভাতের সূচনা।


ঝরা পলাশের মধুর মাঝে,
বেহুলা দাঁড়িয়ে ছিল একাকী,
স্বামীহারা নারীর একটি ছবি,
যেখানে সমাজের চোখে সে ছিল শুধুই বন্দী।

“বিধবা,” শব্দটি ঘুরছিল মুখে,
ফিসফিস করে ছড়িয়ে পড়ত,
যেন বিষের ঢেউ,
যেন অকন্ঠ গর্জন,
যেন কাঁপা চাঁদের আলোতে খোঁজে দূর্দশার ঢেলা।

সত্যি বলেনা কেউ, কিন্তু দেখে সবাই,
তার নিঃশব্দ হাঁটা, তার কাঁপা চোখ,
আর তার নীরব কান্না—
যা কখনো উঠতে পারে না মুখে জোরে।

সমাজের অচেনা মুখগুলো ক্রমশ ঘণীভূত,
যেখানে কটূক্তির নোকররা অপেক্ষা করে,
এক একটি কথায় ছুরি মারে,
আর বেহুলার আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়,
একটা একলা বাড়ির মতো—ধীরে ধীরে ভেঙে।

তার জীবনের প্রতিটি কোণে আঘাত,
যা গভীরতর করে তার একাকীত্ব,
মাথা নীচু করে চলতে শিখিয়েছে মাঝে মাঝে,
তবু সে কখনো হার মানেনি.

কেউ বলেনি তার কষ্টের গল্প,
কেউ শোনেনি তার ভেতরের কাব্য,
বেহুলার বুকের ভেতর সঞ্চিত হয়েছে
বেদনা, অবহেলার এক অমোঘ কাব্যখণ্ড।

বাঁশির সুরে, নদীর ছায়ায়,
নিস্তব্ধ রাতের কথা বলে যায় সে,
মুক্তির স্বপ্ন বুনে,
যেখানে সমাজের কনকনে ঠান্ডা নেই,
যেখানে কটূক্তি ছুঁয়ে না যায় অন্তর।

বেহুলার চোখে জ্বলজ্বল করে এক দীপ,
যে দীপের আগুনে পুড়ে যায় সকল নির্যাতন,
সেই দীপ তাকে শক্তি দেয়,
আত্মবিশ্বাসের নতুন রোদের পথে হাঁটার।

তাকে যতই ধাক্কা দাও, সে স্থির থাকে,
কারণ তার মনে বাঘের মতো সাহস জেগে উঠে,
সাহস যা বাঁধ ভেঙে দিয়ে নতুন সূর্যের পানে যায়,
সাহস যা একদিন সমাজের কুয়াশা দূর করবে।

সেই সাহসে বেঁচে থাকে সে,
এক শক্তিশালী নারী, যিনি হার মানেন না,
যিনি কেবল নিজের নয়,
সমস্ত নারীর আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।

সমাজের চোখের এই কটাক্ষ তাকে পরাজিত করতে পারেনি,
বরং বেহুলাকে করেছে আরও দৃঢ়, আরও নির্ভীক।

সে কেবল জীবনের পরীক্ষায় নয়,
এক নতুন কবিতার রচয়িতা,
যেখানে প্রত্যাখ্যান হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণা,
অবজ্ঞা হয়ে ওঠে আত্মমর্যাদার গান।

বেহুলা যাচ্ছে সামনের পথে,
যেখানে সমাজের সীমানা পেরিয়ে,
ব্যর্থতার গভীরতা স্পর্শ করে,
তার আত্মাটুকু জেগে ওঠে পুনরায়।

এই অজস্র কটাক্ষের মাঝে তাকে পথ দেখিয়েছিল তার অন্তরের দীপ,
আর সেই দীপ আজও জ্বলছে বেদনার মাঝখানে—
এক অটুট বিশ্বাসের পথে,
যেখানে বোধ হয়, কেবল বেঁচে থাকার গান বাজে।

বেহুলার মুখে ওঠে না দরিদ্রতার কন্ঠস্বর,
তবু তার চোখেই ঝরে এক অসীম বেদনা,
যা শুনে শুধু নীরবতা ভালোবাসে তার পৃথিবী।

সে বুঝেছে, সমাজের কটূক্তি শুধু শব্দ নয়,
একটি যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে শক্তিহীন হৃদয় ভেঙে যায়,
তাই তার লড়াই ছিল শুধু নিজের জন্য নয়,
সমস্ত নারীসত্তার মুক্তির এক মহাযুদ্ধ।

সে দাঁড়িয়ে থেকে সামনের অন্ধকারে,
যেখানে আশা ও বিশ্বাসের ডানা মেলে যায়,
আর তার প্রতিটি পদক্ষেপ হয় এক নতুন মুক্তির অঙ্গীকার।

এই ছিল বেহুলার জীবনের গল্প,
যেখানে সামাজিক অপমান তাকে পরাস্ত করতে পারেনি,
বরং একটি সাহসী নারীর প্রতীক হয়ে জেগে উঠেছে সে,
যিনি লড়েছেন, হেরে যাননি,
আর দেখিয়েছেন প্রতিটি স্ত্রীর অধিকার ও মর্যাদা!

বেহুলার চোখে আজও জ্বলজ্বল করছে সেই দীপ,
যে দীপ সমাজের অন্ধকার কেটে দিয়ে
এক নতুন দিনের জন্ম দেয়,
যেখানে নারীর সম্মান ও স্বাধীনতা হবে বিজয়ীর শপথ।



Comments

Popular posts from this blog

বেহুলা

বহমানতায়

বেহুলার