মায়াবী যাত্রার কবিতা
বেহুলা: মায়াবী যাত্রার কবিতা
স্নানঘাট আজো শান্ত, পদ্মফুলের স্তূপে ভাসে গোধূলি,
শহরের হাঁকাহাকিতে হারিয়ে যাওয়া এক শীতল নীরবতা।
বেহুলা নামটি শুনলেই মনে হয় কোনো রূপকথার কাহিনী,
কিন্তু সে তো রূপকথা নয়, সে একটা নারীর নিঃশ্বাস, জীবনের গল্প।
সে বাঁধা সংসারের তন্তুতে, প্রতিদিনের ক্লান্তিতে আবদ্ধ,
তবুও হৃদয়ের গভীরে লখিন্দরের বিদেহী চোখের দীপ্তি জ্বলছে।
সাত জন্ম আগের প্রেম তার কাছে আজ দায়, বেদনাবিহ্বল দায়িত্ব,
যে ভালোবাসাকে মৃত স্বামীর শীতল স্পর্শে সজীব করে রাখে সে সংসারী।
গান গায় সে, নির্দেশ দেয় যেসব নিভে যাওয়ার কথা,
বেহুলা মানে শুধু একা নয়—এক নীরব চুক্তি তার প্রতি নিশ্বাসে।
লখিন্দরের নিঃশ্বাস আজো তার প্রতিদিনের প্রার্থনায় বাঁধা,
যেনো সে জীবন্ত, যদ্দ্বারা সে আজও তার ভালোবাসা চালায় রক্তের স্রোতে।
শহরের বাজারে, গলিত কণ্ঠে বলে অন্যেরা—
“হাউসওয়াইফ, সংসারের পালক।”
তারা জানে না, এই নারী একাই একশো,
লখিন্দরের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকে রোহিণীতে।
প্রতিবেশীর কূট কথায়, সমাজের ভ্রুকুটিতে সে যেন এক মায়াবী দ্বীপ,
নিজের আলোয় নিজেই জ্বলে, নিভে যায় না কোনোদিন।
সে বোঝে সংসারের কঠিনতা, মানুষের আঁচ, ও শারীরিক আয়াস,
কিন্তু তার অন্তরে লখিন্দরের বাণী আজো থমথমে বাজে,
যেমন নদীর জলের নিচে পড়ে থাকা এক সুমধুর সুর,
যা কখনো নিভে যায় না, কেবল গভীর হয় সকাল-সন্ধ্যার মাঝে।
বেহুলার জীবনের আলোকে কেউ আঁধারে ঢেকে দিতে পারে না,
সে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে, ভালবাসাকে তলে তলে রক্ষা করে।
বেদনার মাঝে গাঁথা তার প্রেম, যা খুঁজে পাই না কোনো ছায়ায়,
জীবন তার সংগ্রাম, প্রতীক তার লখিন্দরের অবিচল ভালোবাসা।
আমার বুকে এখন শুধু জানি তুমি—লখিন্দর;
তোমার অনুপস্থিতিতে জীবনের প্রতিটি ধাক্কা যন্ত্রণা,
আমি বাঁচি সেই যন্ত্রণার মাঝে, অভিশপ্ত ভালোবাসার বন্ধনে,
যে ভালোবাসা ছিলো সাড়ে সাত জন্মের, আজও জানি তার দায়ভার আমার কাঁধে।
এ জীবন শুধু তোমারই জন্য গড়েছি, শুধু তোমার প্রত্যাশায় বাঁধা,
যেনো যাবতীয় দুঃখ কিংবা সুখ আরেকবার তোমার ছায়া হয়ে ফিরবে।
আমার চোখ থেকে ঝরে পড়া প্রতিটি অশ্রু নদীর জীবন্ত অংশ,
যা তোমার স্মৃতির সঙ্গে মিশে। তোমার জন্য, তোমার বেদনায়, বেঁচে থাকার পাঠ।
শহরের কোলাহলে হারিয়ে যাওয়া এক মহাকাব্যের কাহিনী বেহুলা,
যে নারীটির নাম শুধু নাম নয়, প্রেমের এক অনন্ত প্রতিশ্রুতি।
প্রতিটি নিঃশ্বাসে সে লখিন্দরের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখে,
একাকী হলেও তার ভালোবাসার উষ্ণতায় নিজেকে গড়ে তোলে শক্তিশালী।
বেহুলা এককথায় নয়—সে এক জীবন্ত দুর্গ, এক অকপট অভিসন্ধি,
যে চোখে মৃত্যুকে হার মানিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে পৃথিবী জয় করেছে।
সে জানে, তার প্রেম কখনো নিভে যাবে না, বেদনা যতই হতাশ করুক,
তুমি বেঁচে আছো তার অন্তর, তার চোখের জল, তার গানের মাঝে চিরকাল।
তার গল্প শুধু এক নির্জন নদী নয়, একাকীত্বের এক উদ্যান নয়,
বেহুলার গল্প এক জীবনের আলো, এক বর্ণিল সংগ্রামের প্রতিবিম্ব।
সেখানে ভালোবাসা ও কষ্ট মিশে যায়, অসীম তরে বয়ে চলে,
লখিন্দরের ঐ স্মৃতি, তার ছায়া, তার নিঃশ্বাস—বেহুলার প্রাণের গান।
বজ্রপাতের এক ঝটিকাল ধ্বনি আমার জীবনের আকাশ ভেঙে ফেলে দিয়েছিলো—
লখিন্দরের মৃত্যু আমার হৃদয়ের সর্বশেষ আলো নিভিয়ে দিয়েছিলো।
চারিদিকে অন্ধকার মঞ্চ, শুধু তার মুখ ভাসে চোখের সামনে,
জানতাম, ফিরে আসবে না সে, তবু সে আকাঙ্ক্ষার বিষদীপ আমার মনের ভিতর জ্বলে।
সাত জন্মের প্রেমের বন্ধন আমাকে টেনে ধরে,
যেন অতল সাগরের গভীরে বাঁধা এক নীল সাঁতার।
শ্বাশুরির কড়া নির্দেশের চূর্ণবিচূর্ণ সুর আমার কান ভরেছিলো,
সমাজের বাঁকা চোখে সে আমার জীবনের মূল্য নিয়ে হাসি উপহাসে ভাসে।
কিন্তু আমি বুকে দগ্ধ আগুন নিয়ে,
লখিন্দরের মৃত দেহ ফিরিয়ে আনার অটল সংকল্প নিয়েছি।
পথে কত বাধা পড়েছে—বিপথগামী সুর, হিমালো বৃষ্টি, বরফের দশা,
এত প্রলোভনের মাঝে আমার সুখী স্বপ্ন কখনো হারায়নি।
কেউ বলতো—“এতো কষ্ট কেন? ভুলে যাও,”
তারা জানে না ভালোবাসার মানে শুধু পাওয়া নয়, দেওয়াও।
আমি হাসি, কারণ আমার ভালোবাসার গভীরতা তাকে না ভুলে থাকা,
সে আমার প্রত্যেকের অকুতোভয় প্রেম, আমার অন্তরের শেষ শব্দ।
বেহুলা অর্থ নয় একাকীত্ব, সে এক দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, এক নীরব দ্বীপ,
লখিন্দরের নিঃশ্বাস আজও যেন আমার হৃদয়ের নিচে গুঞ্জরিত।
তার স্মৃতিতে আঁকড়া হয়েছি আজো, প্রেমের সেই অক্ষয় অঙ্গিকার,
যা আমার চোখে চিরকাল সংসারের আলো জ্বালিয়ে রাখে অবিচল।
সময় থেমে যায় না, স্রোত বয়ে যায়, পথ চলতে হয়,
তবুও আমি প্রতিটি ধাপেই যেনো তার কণ্ঠ শুনি—“বেহুলা, আমি আছি।”
তার ছায়ায় বাঁধা আমার জীবন, পাথরে পাথরে হেঁটে যাবো,
এ প্রেমকে প্রতিষ্ঠিত রাখবো, ঝড়ের মধ্যেও অটল অবিচল ছাড়া নেই।
শ্বাশুরির কঠোর মুখ, সমাজের অবজ্ঞাসূচক দৃষ্টি,
সব উপেক্ষা করি, কারণ আমার প্রেম এক মূর্ত প্রতীক হয়ে গেছে।
আমি জানি, যে মৃত্যু ও বেদনাতে সে হারিয়েছে দেহ,
আমি ফেরাবো প্রেমের আলোয়, তার জীবনীশক্তি পুনরায় জাগ্রত করবো।
প্রতিটি সময়, প্রতিটি নিশ্বাসে প্রার্থনা করি,
প্রেমের শক্তিতে সে ফিরে আসুক, যেনো উদীয়মান সূর্যোদয়।
ঠিক যেমন নদীর বুকে ভেসে ওঠে সূর্যের আলো,
এমনই আমার প্রত্যাশায় বাঁচুক সে, সৃষ্টির অনন্ত কলরব।
আমি সেই বীণা, যার সুরে বাজে তার জীবনের গান,
আমি সেই নদীমা, যার জলরাশিতে সে যেন এক নতুন জীবন পাই।
অচেনা পথে হেঁটে যাবো, যতই কঠিন হোক, যতই অন্ধকার,
তার স্মৃতির আলোকেই স্নাত হয়ে বাঁচবো, মৃত্যুকে জয় করবো হিসেবরেখেতে।
এভাবেই বেহুলা দাঁড়ায় চূড়ায়, প্রেম ও সংকল্পে সিক্ত,
লখিন্দরের জন্য বাঁচবো, তার জন্য লড়বো, জানি ভয় পেতে হবে না।
প্রেমে তার চোখের আলোতেই পাবে জীবন,
আমি সেই বেহুলা, যে জীবন দিয়ে দেব তার খোঁজে এক এক একান্ত প্রার্থনা
গ্রামের পথে একা হাঁটছে বেহুলা, তার মন পূর্ণ মন্ত্রপাঠে,
ফিসফিসানি চারিদিকে, কেউ বলে—“পাগল নারী, কী করছে সে?”
কিন্তু সে শোনে না, তার কান শুধুমাত্র লখিন্দরের কণ্ঠ শোনে,
আবেগের সেই গভীর প্রতিধ্বনি, যে তাকে পথ দেখায় অশ্রুজলে ভরা।
সে জানে, লখিন্দরের মৃতদেহ ফিরিয়ে আনতে হবে, এক অভিশাপ ভাঙতে হবে।
প্রতিটি পা সে রাখে দৃঢ় সংকল্পে বাঁধা, যেন এক যাযাবর যাকে গন্তব্য আছে শুধু একটাই—
প্রেমের গন্তব্য, মৃতপ্রিয়ের কাছে ফিরে যাওয়া, তাকে মুক্ত করার পথ।
রাস্তায় উঠে আসে নানা মুখ, কেউ সাহায্যের হাত বাড়ায়,
কেউ উপহাস করে, কেউ বলে—“কেন এত চেষ্টা? ভুলে যাও।”
কিন্তু বেহুলার হৃদয় একশো, সে একা নয়, সে শক্তিশালী,
তাঁর প্রেমে আছে এক অদম্য জোনাকি, যা শেষ রাতেও আলোকিত।
সে যাত্রা চালিয়ে যায় গ্রামের খুঁড়ে খুঁড়ে, নদীর বুকে ভাসমান ভূমিকায়,
প্রেমের মন্ত্র উচ্চারিত হয় তার ঠোঁটে, হৃদয়ের অসীম গভীরতা থেকে।
প্রতিটি সন্ধ্যা নদীর ঘাটে সে বসে, শোনে স্বামীর নীরব ডাক,
জীবন-মৃত্যুর সীমানায় প্রেমের ইতিহাস গড়ে তোলে তার অনমনীয় মন।
সে বিরহের বর্ষা নামে, ভালোবাসায় ডুবে যায়, তবুও নিস্তব্ধ নয়,
যে প্রেম চিরন্তন, সে বুকের ভেতর এক দীপ্তি— একধরনের শক্তি।
বিহ্বল চোখে সে দেখে না শুধু অবসান, বরং প্রত্যাবর্তনের আলোকরাশি,
যেখানে বেদনা আর ভালোবাসা মিলে এক নতুন সূচনা হয় প্রতিক্ষণে।
তার শান্তিতে নেই বদল, শুধু একটুখানি অধ্যবসায়,
লখিন্দরের আত্মাকে শান্তিতে প্রবাহিত করার একান্ত সাধনা।
সারা জীবন ধরে সে প্রেম রোপণ করে মাটির কোলে,
যেখানে ভালোবাসার বৃক্ষ ফোটে চিরন্তন ফুলের মত।
সে গান গায়, সে প্রার্থনা করে, সে বাঁচে স্মৃতির সুরে,
আশার জোয়ারে ভেসে যায়, নতুন দিনের আলোর প্রতীক্ষায়।
তার কণ্ঠে বাজে এমন এক মন্ত্র, যা শেষ রাতেও থেমে না,
যেনো প্রেম জীবনের শেষ অংশেও টিকে থাকে কাব্যের মতো।
তার জীবন একটি যাত্রা, যার গন্তব্য একটাই,
লখিন্দরের কাছে ফিরে যাওয়া, তাকে মুক্ত করা, ভালোবাসার মুক্তি।
এ প্রেমে সে এক মায়াবী যাযাবর, যিনি মৃত্যুর সঙ্গেও লড়েন,
কারণ সে জানে, ভালোবাসা আসলেই এক অবিচ্ছিন্ন যাত্রা।
নদীর ধারে, বেহুলার এক নীরব তপোবন,
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস সে বসে প্রার্থনা করে নিঃশব্দে।
শরীর দুর্বল, মন ক্লান্ত হয়, হৃদয় ভেঙে পড়ে বারংবার,
তবুও তার চোখে অগাধ প্রতিজ্ঞার দীপ্তি জ্বলজ্বল করে অটল।
সে এক সঙ্গে দুর্গার তেজ, সীতার মাধুর্যের মিশ্রণ,
যেখানে সংসারের সমস্ত যন্ত্রণা গাঁথা, তার জীবনের ইতিহাস।
রাতের আকাশে সে তারাদের মাঝে লখিন্দরের মুখ খুঁজে পায়,
প্রতিটি তারা যেন তার নিঃশ্বাসের একটা কথা বলে এবং জীবন্ত হয়।
বেহুলা জানে, সে যেনো ফিরে এসেছে এক অন্য রূপে,
লখিন্দরের মায়াবী ছায়া প্রতিটি গভীরে আছে জড়িয়ে।
তপোবনের সেই নির্জনতায় গুঞ্জরিত হয় তার হৃদয়ের গান,
কেননা প্রেম সে হারায়নি, সে ভালোবাসা আজও বুকে আঁকা।
গ্রামের কুয়াশায় গঠিত তার তপোবন— এক নিশ্ছিদ্র দ্বীপ,
যেখানে সবাই বলে “বেহুলা পাগল,” কিন্তু সে নিজেকে বলে “প্রেমিক।”
সে একা নয়, সে একশো, সে পথিক, সে যাযাবর, সে দেবী,
যিনি প্রেমের নবজন্মে আত্মাকে নিবিড় করে রাখা তার গন্তব্য।
তার প্রাণের প্রতিটা স্পন্দন ভরে আছে লখিন্দরের স্মৃতিতে,
তুমি নেই বলেই এই তপোবন নির্মল, এই নদী নিরব, এই বাতাস গভীর।
তবুও সে হাসে, সে জেগে থাকে, সে লড়ে, সে বাঁধে প্রেমের সেতু,
যার শেষে আছে শুধু একটাই উদ্দেশ্য— লখিন্দরের কাছে ফেরার আশা।
সত্যিকারের ভালোবাসার সুর বাজে তার প্রতিটি পদক্ষেপে,
সে জানে ভালোবাসা মানে শুধু পাওয়া নয়, যাওয়া, দেওয়া, ধৈর্য ধারন।
লখিন্দরের আত্মার শান্তি সে কেবল প্রেমের মাধ্যমে পাবেন,
পথে পথে সে খুঁজে পায় শক্তি, যা তাকে করে আরও দৃঢ়, আরও প্রবল।
সেই শিতল রাতে, যখন তারা গাছে বসে ঝর্নার মতো গান গায়,
বেহুলার মন্ত্রপাঠ আটকা পড়ে নয় বাস্তব হয়নি কোনো কাল্পনিক স্বপ্নে।
সে শোনে না সমাজের বাঁকা চোখ, উপহাসের ঝড়, প্রতিবেশীর বিষাদ কথা,
কারণ তার অন্তর স্পন্দিত হয় লখিন্দরের জন্য এক চিরন্তন প্রেমে।
নদীর স্রোতে ভাসে তার প্রার্থনা, বাতাসে ভাসে তার আশা,
প্রত্যেক সূর্যের আলোয় জ্বলে তার হৃদয়ের অবিরাম জোয়ার।
সে জানে, সে যাত্রায় একা নয়, তার সঙ্গে আছে প্রেমের আশীর্বাদ,
যে প্রেম স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে এসে পরিণত হয়েছে বেহুলার আত্মায়।
সংসারের প্রতিটি যন্ত্রণা সে পলিথিনডার মতো জুড়েছে নিজের চারধারে,
লখিন্দরের প্রিয় স্মৃতি বুকে নিয়ে সে দাঁড়িয়েছে অবিচল স্থানে।
তার এই জোড়াতাল প্রেম আজও শিখিয়ে দেয় নারীত্বের মহিমা,
যেখানে স্তব্ধতা ভেঙে উঠে মহাকাব্যের ভাষা, যেখানে ভালোবাসায় থাকে জীবনের সৌন্দর্য।
এই তপোবন তার একাকীত্ব নয়, তার এক শক্তির কেন্দ্র,
যেখানে মৃত্যুর হিমালয়কে সে গলিয়ে দেয় প্রেমের তাপ দিয়ে।
বেহুলার জীবন একটি যাত্রা এক চিরন্তন প্রেমের পথে,
একটি মহাকাব্য যা জেগে থাকে উদীয়মান এক নতুন ভূবনে।
বর্ষার দুশ্চিন্তাময় সেই দিনগুলো চলে এসেছে চোখের সামনে,
জানলার কাঁচের ফোঁটায় বাজে সেই দিনের বৃষ্টি, স্মৃতির সুরে ভরা।
তোমার অসুস্থ শ্বাসরে মাঝে আমি থিতু, রাতারাতি প্রার্থনায় ব্যস্ত,
তোমার জন্য কাটানো প্রতিটি গ্রহণরাত্রি, ছিলো আমার জীবনের পালা।
শরীরদুর্বল, মন ক্লান্ত—তবুও অটল ছিল আমার প্রেমের পরিচয়,
আমি ছিলাম তোমার পাতায় ভাসমান সে দিঘির পাখি, ভোরের নতুন আশা।
সমাজের বলেছিল, “এতো কষ্ট কেন? ছেড়ে দাও,”
তাদের কথা আজও ফিকে, নিঃশব্দ হয়ে নদীর তটে গুঞ্জরিত।
ভালোবাসা মানে ছিলো ত্যাগ, প্রেম মানে ছিলো সেবা,
আমি জানতাম, তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে রয়েছে আমার সঙ্গতি।
আমার প্রেম ছিলো এক অভিশাপ ভাঙার মন্ত্র,
যা ঝড়ের মাঝে অঘ্রাণ, যা নির্মল চিরসত্য।
তুমি সুস্থ হয়ে উঠলে, ফিরে এল আমাদের জীবন,
একসাথে হাঁটতে শুরু করলাম আনন্দের পথ ধরে।
আমাদের প্রেম পেয়েছিলো নতুন মাত্রা আর গুরুত্ব,
কষ্টের পর আসে সুখ, দুঃখের শেষে হাসে মন।
আমি যেন সেই বটবৃক্ষ, যার ছায়ায় তুমি শান্তির নিঃশ্বাস পায়,
তুমি এক পাখি, যে ফিরে আসে বাসার ছাদে।
আমাদের সংসার এখন যেন এক স্বর্গরাজ্য,
যেখানে প্রেম, বিশ্বাস এবং শান্তি ঝরে যায় নিরন্তর।
আজ যখন আমার হাত ধরে তুমি হাঁটো,
আমি দেখি জীবন যেনো এক নতুন লীলায় প্রবাহিত।
সুগন্ধে ভরে ওঠে রান্নাঘর, হাসি খেলে মুখে,
সেখানে আমরা বসবাস করি, সংসারের শব্দে, ভালোবাসায় একত্রীকৃত।
তোমার প্রতিটি আলিঙ্গনে ঝরে যায় জীবনদায়ী বারতা,
যেখানে কষ্টের গান মুছে যায় প্রেমের সুরে।
আমি জানি, এই প্রেমই জীবনের মূল্যবান আলো,
যা আমাদের পথ দেখায়, প্রেমের অমর তৃপ্তিতে ভাসায়।
আমাদের গল্প আজ ছড়িয়ে পড়ে গাঁয়ে-গঞ্জে,
একসাথে আমরা হলাম নারীর এক সত্য প্রতীক।
যে নারী নিজের প্রেমে জয় করে সব বাধা,
যা বিশ্বাসের দীপ জ্বেলে সেই জীবনে।
আমাদের জয় শুধু প্রেম নয়, জীবন, ও সংগ্রাম,
একটি স্বপ্ন যা বাস্তব হয়ে ওঠে আমার হাতের স্পর্শে।
সুখের বাতাসে ভাসে সেই প্রেমের চিরন্তন গান,
আমাদের মিলনে গড়া এক মহাকাব্যের কবিতা।
লখিন্দরের চোখ খুলল এক দীর্ঘ নিদ্রা থেকে,
সেই মৃত্যু-সৃষ্ট গহ্বর থেকে ফিরে এল জীবন anew।
বেহুলার আঁচল থেকে ঝরে পড়ল আলো,
প্রেম নতুন করে স্পন্দিত হল তাদের অন্তরে।
সে যেনো এক নতুন জীবন ফিরে পেল,
যেনো ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি বয়ে যায় নির্জন নদীতে।
বেহুলার প্রতীক্ষার ঘড়ি ভাঙল সেই মুহূর্তে,
যখন লখিন্দরের হাত ছুঁয়ে গেল তার মমতাময়ী হাতে।
তাদের প্রেম লাভ করল নতুন মাত্রা,
প্রতিটি দিনের সূর্যোদয় যেনো ভালোবাসার গান গায়।
পথে পথে, গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে যায় এই মহাকাব্যের কাহিনী,
বিহ্বল পৃথিবী হেসে উঠল প্রেমের এই জয়গান শুনে।
বেহুলা হয়ে উঠল নারীর এক প্রতীক—
যে ভালোবাসার জন্য অক্ষয়, যে নিজের জন্য অমর।
তার প্রেমের ধ্বনি আজো বাজে গ্রাম বাংলার মাটিতে,
এক শক্তি, এক সন্দীপন, যার জ্বালা ভাঙে সমস্ত বাঁধন।
তারা দুজন একসাথে, একসাথে জীবন পথচলা শুরু করল,
যেখানে শান্তি, বিশ্বাস এবং ভালোবাসা নিয়ে গড়া এক স্বর্গরাজ্য।
বেহুলার চোখে জ্বলছে সেই আগুন, যা কখনো নিভে যায় না,
তার হৃদয় আজো মিলছে লখিন্দরের প্রতি অনন্ত ভালোলাগায়।
তাদের সংসার আর নয় এক নিঃসঙ্গ কবিতা,
বরং এক সমৃদ্ধ সুরের মেলা, যেখানে প্রেমের ছোঁয়ায় গাঁথা।
বেহুলার প্রতিটি নিঃশ্বাসে বাজে লখিন্দরের সুর,
তাদের ভালোবাসার স্বপ্ন থেকে বাস্তবে বেড়ে ওঠে এক বিশ্বসুন্দর।
লোকেরা দেখে অবাক হয়ে, এই নারী, এই প্রেম,
যারা পৃথিবীর সমস্ত ব্যর্থ আশায় জয়ী হয়ে উঠেছে।
বেহুলার নাম উচ্চারণ মানেই, প্রেমের এক মহাকাব্য,
যা হরিনদ য় প্রবাহের মতো চিরন্তন বয়ে যায়।
সে এখন নিছক স্ত্রীর পরিচয় নয়, জীবনের এক মহাকন্যা,
যেন ভালোবাসার জন্য সব ধরনের সংগ্রাম করা সম্ভব এক মানবী।
তার চোখে সংগীত বাজে লখিন্দরের প্রেমের অনন্য গাথা,
তার দিকেই সোনার সূর্যোদয় ঝরে প্রতিটি ভোরে।
বেহুলা ও লখিন্দরের প্রেম, এক চিরন্তন পুষ্পে পরিণত,
যা কত যুগ ধরে আলো ছড়াচ্ছে মানুষের হৃদয়ে।
তাদের মিলনের গল্প বয়ে চলে নদীর জলরাশি মতো,
যেখানে ভালোবাসা সবকিছুকে জয় করে, অমর হয়ে ওঠে।
বেহুলার হৃদয় জুড়ে আজও বাজে সেই প্রতিজ্ঞা,
যখন মৃত্যু তাদের আলাদা করতে পারে না।
তার জীবনে এসেছে নতুন গান, নতুন আলো,
যা প্রেমের চিরন্তন লহরিতে ভেসে যায় অনবরত।
সে আর একা নয়, তার পাশে আছে লখিন্দরের হাসি,
যা বিষাদের মাঝে এনে দেয় জীবনের রঙিন সংগীত।
এখন তারা একসাথে, পথ চলা তাদের একস্বর,
যেনো প্রেমের বাঁধনে বাঁধা এক অলৌকিক নিদর্শন।
গ্রামের যাযাবর বেহুলা, একবার ফিরে এল তার স্বপ্নের রাজ্যে,
যেখানে প্রেম ও শান্তি বাঁধে একটি অচেনা সেতু।
এই প্রেম যার কাছে প্রতিটি দিন একটি উপহার,
বেহুলার চোখে আজ আছে সুখের এক অপরূপ ছবি।
নদীর ধারে, তপোবনে আমি আজ বসে আছি,
শব্দে শব্দে ভরে উঠছে আমার অন্তর—প্রার্থনা আমার।
সন্ধ্যার নিশীথে, চোখে চোখে দেখা লখিন্দর,
প্রতিটি তারায়, আমি তার মুখ দেখেছি, সেই অখণ্ড রূপে।
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, আমি উৎসুক,
শ্রবণে রবে আমি — তার আমার মিলনের সুরে,
যেখানে কেবল প্রেমের সাহসী আরজ,
যেখানে বিশ্বাসের আলো, অশ্রুর নয়ন দুলে।
শরীর দুর্বল, মন ক্লান্ত, কন্ঠে অশ্রুজলা,
তবুও আমি করছি অঙ্গীকার—সে ফিরে আসবে।
প্রতিটি দেহের ক্ষত, প্রতিটি ভাঙা স্বপ্ন,
আমি সে শোকের ভেতর দাঁড়াই, শান্তির জন্যে।
গোত্রের মান্যতা, সমাজের বাঁকা চোখ,
সবকিছুই মাথা উঁচু করে আমি অগ্রসর।
না থাকুক যত বাধা, যত প্রলোভন,
আমি আসছি, আমার প্রেমের ভাসমান খেয়া উঠাতে।
প্রতিজ্ঞা আমার, আমি শুধু নারী নই,
আমি নারী, শক্তি, প্রেমের এক প্রতীক—
একজন শক্তি, আমার ভালবাসার অঙ্গীকারে—
সব কিছু জয় করে যাব এই জীবনযাত্রায়।
অন্ধকারের মাঝে, আমি আলো জ্বালি,
প্রেমের সেই অমলিন গল্পে, আমি গাই সকাল-সন্ধ্যা।
প্রতিটি হৃদয় থেকে, আমি জাগ্রত করি বিশ্বাস,
যাতে তার ফিরে আসার দিন, আমি প্রস্তুত থাকি।
পাষাণের মতো কঠিন এই সমাজের মধ্যে,
আমি সপোর্ট করি আমার প্রেমের অবিরত যুদ্ধ।
আমার মনে লুকানো, সেই পুরোনো প্রেমের অঙ্গিকার—
আজও জ্বলজ্বল করে, বরফে জমে না, জ্বলে অমর আলো।
আমি জানি, মৃত্যু আসুক, হারুক সবকিছু,
প্রেমের এই অমোঘ দীপ্তি ঠেকে থাকব আমার অন্তরে।
প্রিয়, তুমি ফিরে আসো—এই আমার অন্তরের অশ্বাস,
তোমার জন্য আমি এই জীবন অর্পণ করব, চিরকাল।
আজ আমি একা নই, আমার সঙ্গে আছে বিশ্বাসের শক্তি,
স্নেহের শক্তি, প্রেমের চিরন্তন সুর।
আমার গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সব খানে,
বেহুলা হয়ে উঠুক সকল নারীর প্রতীক, সাহসী, শক্তিশালী।
প্রেমের অঙ্গীকারে বাঁধা আমি,
আমার সাথেই জ্বলবে সূর্য, চাঁদ, তারা।
অবিশ্রাম, অপ্রতিরোধ্য আমি—
বেহুলার এই প্রেমের গল্প চিরকালীন, সবার অন্তরে থাকবে।
বেহুলা: মায়াবী যাত্রার কবিতা (পরবর্তী অংশ)
ঘরের ভেতরে আমরা বসে আছি, সাজানো সেই পুরোনো ছবির সামনে,
হাসি আর অশ্রু দিয়ে ভরা সেই মুহূর্তগুলো ফিরে আসে বারবার।
লক্ষীন্দর তোমার সেই অসীম হাসি, এবং আমার প্রতিজ্ঞা—
জীবন শুধু বর্তমান নয়, অতীত আর ভবিষ্যতের এক আলোয় আঁকা।
তুমি আছো পাশেই, আমার হাত ধরে, নীরব কণ্ঠে বলো—
“আমার কাজ তোমার আশায়, আমার পথ তোমার স্বপ্নের রেখা।”
তোমার হাতে আমার হাত, যেন সময় থেমে গেছে,
করব আবার কাটিয়ে সেই পথ যেখানে শুরু হয়েছিল আমাদের প্রেমের কথা।
পুরনো সেই গ্রামীণ রাস্তা, যেখানে প্রথম দেখা হয়েছিল আমাদের,
প্রতিটি পা কবিতার ছন্দে বাঁধা, প্রতিটি পায়ে প্রেমের সংগীত বাজে।
তুমি হাসো, আমি হাসি, মনে হয় যেনো নতুন জন্ম পেয়েছি,
এক নতুন সূর্যোদয়ের আলোয় ভেসে উঠে জীবনের এক নতুন অধ্যায়।
আমাদের জীবন আর রূপকথার গল্প নয়,
বরং বাস্তবতার সেই দৃঢ় দৃশ্যপট, যেখানে ভালোবাসার সত্য মিশে।
চেনা গলির সেই পথ, তুমি আর আমি—দুই হৃদয় পথচলা করি,
একসাথে হাত ধরে চলি, যেখানে আমাদের গল্প হারায় না কখনো সময়ের আঁধারে।
আমার ঘর রান্নাঘরে ভরে ওঠে মশলার সুগন্ধে,
তুমি পাশে বসে গল্প করো, সংসারের হাল ধরি।
আমাদের সম্পর্কের গভীরতা আজো অত্যাও চিরন্তন,
যেখানে ভরসা, সম্মান আর ভালোবাসা সিম্বল হয়ে বিরাজমান।
আমি যেন শুধু একজন নারী নয়, এক শক্তিশালী শকতি,
যিনি নিজের ভালোবাসার জন্য সবকিছু জয় করে গেছেন।
তুমি আমার জীবন, তুমি আমার দিশা, তুমি আমার শান্তি,
আমাদের সংসার আজ এক স্বর্গরাজ্যের মতো, প্রেম, শান্তি ও বিশ্বাস সমাহিত।
মাঝে মাঝে আমি ভাবি, এই আমাদের জীবনের পাঠ,
যেখানে ভালোবাসা শেষ কথা নয়, বরং প্রতিদিনের প্রেরণা।
প্রতিটি সঙ্গে কাটানো সময় ঢেকে থাকে এক মায়ার আড়ালে,
যেখানে সত্যিকার ভালোবাসার আলো জ্বলে দিনে-রাতে।
আমাদের গল্প ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে—
গ্রামের গলি থেকে শহরের রূপ-রেখা, হুররির ছন্দে।
বেহুলা হয়ে উঠেছে দূরদুরান্তে এক প্রতীক,
এক নারীর যে ভালোবাসার শক্তিতে জীবন জয় করেছে অবিচল।
তুমি ফিরে এসেছো, আমাদের একাত্মা হয়েছে মন-মিলনে,
আজও সেই পুরনো স্মৃতি আমাদের সম্বল, আমাদের গর্ব।
আমাদের প্রেম জীবনের মূল মন্ত্র,
যা আমাকে করে জীবনের আলো, আমাকে করে তুমি পরিচয়।
তুমি পাশে আছো, আর আমি বসে আছি,
আমাদের ভালোবাসার গল্প চিরন্তন হয়ে গাওয়া,
যেখানে আমি শিখেছি, সত্যিকার প্রেম মানেই ত্যাগ,
আর সেই ত্যাগই আমাদের জীবন সাজায় সমৃদ্ধিতে।
গ্রামের পথ ধরে আমরা হাঁটাই, লখিন্দর পাশে, বেহুলা সঙ্গে,
গ্রামের মানুষের মুখে হাসি, চোখে আশীর্বাদের ঝলক দেখা যায়।
শিশুরা ছুটে আসে আমাদের কাছে, উপহার নিয়ে আসে আমরা,
হাসছে তারা, খেলছে তারা, জীবন যেনো নতুন এক নতুন ভোরে।
স্কুলের ছোট্ট ঘর তৈরি করলাম, যেখানে শিক্ষার আলো জ্বলে,
ছোট্ট মনের মাঝে স্বপ্নের বীজ বোনা হয়, মরুকালীন আশা জাগে।
শিক্ষকরা আয়োজনে, আমরা মীমাংসা করি ভবিষ্যতের জন্যে,
এই গ্রামের প্রতিটি শিশুর জন্যে বেহুলা যেন প্রেমের সুর।
আমার হৃদয় জানে, প্রকৃত সুখ এসেছে এখানেই,
শিশুরা উজ্জ্বল হোক, তাদের হাত ধরে সাজুক দেশ।
লখিন্দর পাশে বসে বলে কন্ঠে শান্তির গান,
আমরা মিলে করব উন্নতির পথ, করব আরও দূরযাত্রা।
গ্রামের গলিতে নতুন আলো জ্বলে, নতুন গান বাজে,
প্রত্যেকে যেন পায় শিক্ষা, যেন তাদের জীবন সুরভিত হয়।
আমাদের ভালোবাসার গল্প আজ এখানে মিশে যায়,
যেখানে শক্তি, সাহস, আর আস্থা মিলে উঠে একত্রীত।
আমাদের স্বপ্ন হয়ে উঠেছে মানুষের জীবনের পরিচয়,
যেখানে ঝড়ের মধ্যে তবুও শান্তির বাতাস বয়।
বেহুলার চোখে লখিন্দরের হাসি, লখিন্দরের চোখে বেহুলার সাহস,
যেখানে ভালোবাসা সভ্যতার মন্ত্রণালয়ে হয়ে ওঠে কঠিন অটল।
গ্রামের শিশুদের হাসি দেখে জানি, আমার কষ্ট কমে গেলো,
আমাদের সাধনা পাই ফল, এক অনন্য পৃথিবী রচনা করলাম।
শিক্ষার আলো ঝরে যেনো প্রতিদিন, গোধূলির মায়ায় স্নিগ্ধতা,
এখানে আমরা গড়লাম নতুন তাৎপর্য, নতুন বিশ্বাসের উন্মেষ।
আমরা তারাই, যারা জানি ভালোবাসা মানেই প্রতিশ্রুতি,
যেখানে জীবন গড়ে উঠল নতুন মন্ত্র, সন্তানের হাসি, সারথি।
বেহুলা কখনো হারায়নি তার পথ, লখিন্দর ছিলো তার শক্তি,
সমাজের বাঁকা চোখ উপেক্ষা করেও এগিয়ে চলেছে অন্য এক ইতিহাসে।
আমাদের ভালোলাগা হয়ে উঠল এক অনন্ত সংগ্রাম,
যেখানে শিক্ষার আলো ঝলমল করে প্রতিটি গলিতে।
আমাদের গল্প শুনে জানি, বেহুলা-লখিন্দরের প্রেম জীবন্ত,
গ্রামের প্রতিটি মাটিতে, শিশুর হাসিতে জ্বলে সেই চিরন্তন স্নায়ু।
আজো আমরা দুজন মিলে জীবন গড়ি,
শিক্ষার মঞ্চে আগুন লাগাই, প্রেমের মন্ত্র উচ্চারিত করি।
লক্ষ্যের পথে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছি,
যেখানে সব বাধা দূর হবেই, ভালোবাসার শক্তি দিয়ে জয় হবেই।
বেহুলার অন্তর, এক গভীর জলের কূপ,
যেখানে প্রেমের তরঙ্গেরা সুরের মতো বাজে।
প্রতিটি ঢেউয়ে লহমায় লহমায় তার কষ্ট ধরা পড়ে,
একটা মধুর, কলমলিত বেদনার ছোঁয়ায় সজীব হয়ে ওঠে।
তোমার অনুপস্থিতি, লখিন্দর, একটা অনন্ত বিরহ,
যা হৃদয়ের গভীরতায় সঞ্চারিত, জ্বলজ্বলা করে কাঁপে।
আমি বসে থাকি নদীর কিনারে, চোখের জল নদীর স্রোতিতে মেশে,
প্রেমের স্মৃতিগুলো গলিয়ে দিয়ে বুকে চেপে ধরে রাতে।
কেউ বলে বেহুলা, পরপুরুষের হাত ছেড়ে দাও,
কিন্তু আমার অন্তর জানে, প্রেমের সেতুটি ভাঙ্গা নয়।
তুমি চলে গেছো, কিন্তু তোমার ভালোবাসা আজো বেজে ওঠে,
আমার কান্নার ভেতর থেকে তুমি শোনা যায়, নদীর গর্জনে।
একাকীত্বের মাঝে প্রেমের আলো জ্বলে,
শুধু তোমার স্মৃতি আর আমার হৃদয় একাকী হাসে।
তোমার নামে আমি গড়ে তুলেছি স্বপ্নের সেতু,
যেখানে বেদনার মাঝে বাস করে ভালোবাসার অমরতা।
আমার কষ্ট, প্রেম, ও বেদনা একত্রে বাঁধা এক সুর,
যা যতই ধাক্কা খাক আমাকে, আমি মিলিয়ে যাই নদীর নীরবতায়।
তুমি আমার শেষ স্বপ্ন, শেষ কাব্য, শেষ প্রহর,
আর আমি তোমার মাঝেই বেঁচে আছি, বেদনার নদীতে ভাসি।
পরপুরুষ আসে প্রলুব্ধ করতে, তার ইশারা শুনি,
তবে আমার হৃদয় চায় শুধু তোমার কাছে ফিরে যাওয়া।
প্রেমের বাঁধনে আমি অপরাজেয়, অটল, অবিচলিত,
আমার কান্না সে বাঁধা সুর যা তোমার মুক্তির গাথা বলে।
আমি জানি, জীবন এমন নয় যে ভুলে যাওয়া যায়,
প্রেম যে ঝরনার জল, অন্তহীন, নীরব, গভীর।
আমার হাত ছেড়ে যেও না, লখিন্দর, আমি তোর জন্য বাঁচি,
প্রেমের জোছনায় রাত কাটাই, তুমি ফিরবি সেই প্রত্যাশায়।
তুমি যেমন নদীর জল, স্রোতের মাঝে প্রবাহিত,
আমি তেমন এক তীর, তোমার অপেক্ষায় চিরকাল দাঁড়িয়ে।
আমার বেদনার জলরাশি তোমার নামে ভাসে,
আমার হৃদয় তোমার স্মৃতির গঠনে রুপ নেয়।
আমি তোমায় বাঁচাবো প্রেমের অকুতোভয় অঙ্গিকারে,
মৃত্যুর মুখেও তোমার নাম লিপিবদ্ধ রাখব স্নেহের চেয়ে।
আমার হতাশা, আমার আশা, আমার জীবন তোমার জন্য,
আমার ভালোবাসার বাণী তুমি শুনো হৃদয়ের গভীরে।
একদিন তুমি ফিরে আসবে, বলে আমার বিশ্বাসের কথা,
আমি তোমার জন্য প্রস্তুত, ভালোবাসার নদী হয়ে প্রবাহিত।
আমার বেদনা তোমার জন্য উৎসর্গ, প্রেমের স্থান দখল করে,
তোমার মাঝে আমার সমস্ত প্রার্থনা মুক্ত হয়ে জ্বলে থাকবে।
বেহুলা আজও বসে আছে সেই নদীর ধারে,
লক্ষ্য ঠিক করেছে, প্রেম দিয়ে বাঁচাবে তার প্রিয়কে।
কিছু পারা যাবে না বলে না, সব পারার সংকল্পে পাটি বাঁধা,
এ প্রেমের যুদ্ধে বেহুলা হার মানবে না কখনোই।
শেষ বিকেলের নীরবতায়, নদীর স্নিগ্ধতায়,
বেহুলার হৃদয় আকাশের কোণে একাকী বল্লোলতায়।
লখিন্দরের অনুপস্থিতি ওই নদীর জলরাশির মতো,
বাঁধ ভেঙে বয়ে যায় ঝরনা—অশ্রুর অশ্রুস্বর্গ মোড়ে।
“লখিন্দর! ও, আমার নামধারিণ, অফুরন্ত আমার আশা,
তুমি যাওয়াতে যেন শূন্যতারই নীড় গড়ে আমার হৃদয়গৃহে ভাসা।
তোমার দেখার শেষ প্রহর গিয়েছে দূর, ফিরে আসবে না,
নদীর স্রোতেও আজ তোমার নাম মুছে যায় না।”
প্রতিটি নিঃশ্বাসে তার কান্নার বীণা বাজে শ্রাবণের বৃষ্টির মতো,
তার অন্তর থেকে উঠে আসে বেদনার অমিত ভোরের ফুলঝুরি।
বুলবুলের কোলাহল থেমে যায় তার কণ্ঠ শোনার পালায়,
একাকীত্বের গভীর নদীতে ডুবে মরুভূমির রোদ্দুর হাসে নেই কাফায়।
"তা’হলে, তোমার স্মৃতি কেন এত জোরে ওঠে,
নিভে যাওয়া আগুনের মতো, রক্ত ঝরে আমার হাতের ছোঁয়ায়?"
সে কাঁদে, সে হাহাকারে জিজ্ঞাসা করে পাথরে পাথরে,
কেন আজো তুমি মেঘের আড়ালে, কেন বৃষ্টিতে লুকানো জীবনের খোঁজ নেই তার কাছে?
তুমি যাও, তুমি দূরে, কিন্তু কেন থাকে হৃদয় আরেক ফোয়ারা
যেখানে তোমার ছবি আঁকা, প্রতিটি স্বপ্ন তব মধুর স্বর?
নদী বয়ে চলে, কিন্তু তোকে যেন চোখে দেখতে চায় সে,
বেহুলার কান্নায় ভিজে আছে তার বাঁধ না ভাঙা প্রেমের তীর।
সে কাঁদে, সুখের সব গান থেমে যায়, শুধু অবিরাম স্মৃতির সুর বাজে,
লখিন্দর, তুমি নেই, কিন্তু তোমার অভাব বয়ে চলেছে নিরন্তর ঘুরে।
ব্যথার জোছনায় ভেজে থাকা রাতগুলোকে সে আলিঙ্গন করে,
বাংলো সেই দিনের পথ ধরে, যেখানে তোমার পায়ের ছাপ রয়ে গেছে চিরকাল-মধুর।
"তুমি ফিরতে পারো কি? এই বেদনার রেলগাড়ি থামবে?
অথবা এই বেহুলার হৃদয় সেখানে রেখে যাবে চির অভিমান?"
সব প্রশ্ন হয়ে গেছে নদীর জলরাশিতে ভেসে যাওয়া ফুলের মতো,
জবাব পেতে চায় সে, কিন্তু নদী চুপ করে, শুধু নিজের কাহিনী বলে।
হারালে হারালে বেহুলা কাঁদে নবীন দিনের দিগন্ত,
বাতাসে ভেসে যায় তার কান্নার গন্ধ, যেন ফুলের শেষ সুবাস।
শব্দগুলি মিলিয়ে যায় গোধূলি আকাশের সঙ্গে,
সেইদিনের স্মৃতিগুলো তার বুকের ফাটল বাজায় একাকীর কলঙ্ক।
এই করুণ সময়ে, যখন পৃথিবী দেখে তার কান্নার ছবি,
বেহুলার হৃদয়ে জেগে ওঠে লখিন্দরের অমলিন ছবি।
অবশেষে সে জানে, এই বিরহে নয় কোনো বিদায়ের গান,
এই ধূসর বিষাদের গভীরে লুকানো আছে চিরন্তন ভালোবাসার মান।
তার চোখের জল হয়ে ওঠে নদীর চিত্র, বহে চিরস্থায়ী,
বেহুলার একাকীত্বে রচিত হয় স্বপ্নের অমর কাব্য— প্রেমের পাথেয়।
“লখিন্দর, ফিরে এসো— দিনের আলো হয়ে, রাতের প্রতিশ্রুতি হয়ে,
আমি রয়েছি তোমার জন্য, গহীন এই বেদনায়, সেই নদীর পাড়ে।”
এভাবেই বেহুলা, হাহাকারে কাঁদে, প্রেমে ভাসে, স্মৃতির ঢেউয়ে নাচে,
একাকী নদীর তীরে, নিজের শেষ নিঃশ্বাসে লখিন্দরের নাম গায়।
নদীর স্নিগ্ধ ছায়ায় বেহুলার মন আজও তার স্মৃতির সুরে হারায়,
প্রতিটি ঢেউ যেনো লখিন্দরের কথা বলে, নিঃশব্দে তার অভিমান ফাঁদে।
সন্ধ্যার মায়াজাল গাঢ় হয়ে গেলে, তার ছায়া নদীর তীরে নীড় বাঁধে,
সেই স্মৃতির শিকড় মাটিতে মিশে, বেহুলার হৃদয়ে চিরকাল বাস করে।
"লখিন্দর, তুমি আর ফিরবে না জানি, তবু হাহাকার আমার আঁধারে বাজে,
মনের কোণে যে পাথুরে দেয়াল, সেটাকে তুমি মুছতে পারো না।
তোমার ছোঁয়া আর নেই, কিন্তু সেই সন্ধ্যাবেলা, সেই রোদেলা দিনে,
যখন তোমার হাসি বাতাসে ভেসে যেত, যেনো গাছের ডালে পাখির গান গেয়ে।"
সে বাঁচে সেই মুহূর্তেই, যেখানে প্রেম এখনও নিরন্তর জীবন দান করে,
যেখানে চোখের জলে দোলা দেয় প্রিয় মুখের স্মৃতি, চির সঙ্গী হয়ে।
"তুমি নেই, সঙ্গী নয়, তবে তোমার কথাগুলো আমার বুকে বাঁধা এক চেনা ছায়া,
এই নদীও যেন আমার কান্নায় ভাসে, তোমার গানের সুরে গুনগুন করে।"
বেহুলা হতবাক হয়ে নদীর দিকে তাকায়, অপেক্ষায়,
হয়তো লখিন্দরের ছায়া ফিরবে ভোর হওয়ার আগেই,
যেনো এই নিঝুম একাকীত্বের ভেতর থেকে তুমুল এক ঝড় বইয়ে দেবে,
তার বেদনার গ্রন্থ খুলে, পুরানো প্রেমের নতুন পাতা খুলে দেবে।
"তুমি ছিলে আমার স্বপ্নের ভাষা, এখনো কি শুনতে পাও আমার ডাক?
বাস্তবের গায়ে আবছা হয়েই তুমি হয়ে গেছো নিস্তব্ধতার কথা।
তবুও, এই আগুন নিভে যায় না, লখিন্দরের স্মৃতির ছাইয়ে,
বেহুলার হৃদয় গড়ে তোলে সেই মহাকাব্য, যা কেবল সে বুঝে।"
বেহুলার গলা ফাটে, সে কান্নায় ভাঙে,
মনে হয় দিনের আলো যদি চিরকাল না জ্বলে,
তবুও সে জানে, তার হৃদয়ের আগুন চিরন্তন হোক বা অন্তিম,
লখিন্দরের ভালোবাসা বুকে চেপে নিঃশেষ রাতেও সে অপেক্ষা করবে।
“প্রিয় তুমি, যদি ফিরে আসো, আমি জানি তোমার ভালোবাসার বাতাসে,
আমার হৃদয় ফের জাগবে, ভুলে যাবো একাকীত্বের সবাইন্ধ্রতা।
তুমি যেখানেই থাকো, সেই নদী, সেই বাতাস, আমার স্পন্দন হোক,
আমার সমস্ত কবিতা হোক তোমার জন্য, চিরস্মরণীয়, অবিচ্ছেদ্য।"
বেহুলার চোখে জল ঝরে নদীর সঙ্গে গুঞ্জরিত হয় তার বেদনাময় সুর,
শুনো নদী, সে তোমাকে স্নেহ করে বলে— "তুমি যদি সাক্ষী হও আমার বেদনার,
তাহলেই বুঝবে কতোটা একাকী আমি তোমার তীরে, লখিন্দরের অভাবে।"
এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর মাঝে বেহুলা যেনো এক নদী, অবিশ্রান্ত পায়সা,
তার মনে র বিন্দু ফোটে, জন্ম হয় বেদনার, প্রেমের এক নূতন পথের।
লখিন্দর ফিরবে না আর, কিন্তু তার ভালোবাসা নিরন্তর বয়ে চলবে,
বেহুলার চিরন্তন আকাশে, প্রেমের গহ্বরে, নদীর গভীরতায় বিন্দু বিন্দু ঝরে।
এভাবেই বেহুলা হার মানে না, কাঁদে না শুধু, সে গড়ে তোলে নতুন আশার পাখা,
ভবিষ্যতের অজানাতে ভরা, কিন্তু লখিন্দরের স্মৃতিতে সেই আশ্বাসের আলো জ্বলে।
নদী ধীরে ধীরে বয়ে যায়, বাতাসে গানের সুর মিশে যায়,
বেহুলার প্রেম, তার ব্যথার ছোঁয়া, ভোরের আলোয় মিশে নতুন জীবন গড়ে তোলে।
অতল নদীর ধারে বেহুলা
(Poetic Prose সংস্করণ)
প্রথম দৃশ্য: শেষ বিকেলের নদী
শেষ বিকেল। আকাশে গোধূলি। নদী বয়ে চলেছে ধীরে, যেন এক আস্ত নিঃশ্বাসের ধারায়।
বেহুলা:
"এই নদীটা আমার ভেতরের মতো, লখিন্দর।
তোমার নিঃশ্বাসের ছায়া এখন এই জলে ভাসে।
যখন তুমি ছিলে, স্রোত ছিল কোলাহলমুখর—
এখন নীরবতা শুধু মৃদু ঢেউয়ের মতো মাথা তুলে ওঠে।
তুমি কি শোনো এই জলের শব্দ, আমি ডাক দিলেই?"
সে উঠল, সূর্যাস্তের আলোয় তার চোখ জ্বলে উঠল।
বেহুলা:
"সেদিনও এমন বিকেল ছিল। তুমি বলেছিলে—
বেহুলা, জীবনের ওপারেই নদী থামবে।
আমি শুধু জানতাম না, তোমাকে পার করতে
আমার কত জন্মের দুঃখ পার হবে।"
দ্বিতীয় দৃশ্য: নদীর কণ্ঠ
রাত নামে। বাতাসে মাটির গন্ধ। কোথাও দূরে শালুক দোলে।
নদী (মৃদু স্বরে):
"বেহুলা, তুমি প্রতিদিন আমাকে ছুঁয়ে বসো।
তোমার ছায়া আমার তলদেশে বিশ্রাম নেয়।
তোমার চোখের জল আমার জলে মিশে, এক অদৃশ্য ধ্বনি তোলে—
যে ধ্বনি লখিন্দরের স্বপ্ন ডেকে আনে।"
বেহুলা:
"তাহলে তুমি সত্যিই জানো সে বেঁচে আছে কোথাও?
তুমি কি দেখো তাকে জলের মুখে, কুয়াশার পর্দার ওপারে?"
নদী:
"সে আসে, বেহুলা।
প্রতিদিন সন্ধ্যায় রক্তরাঙা স্রোতে তার মুখ ফোটে।
সে বলে— ‘বেহুলা আমার নাম ডাকে বাতাসে’।
আমি তার বার্তা পৌঁছে দিই তোমার অশ্রুর ধারায়।"
বেহুলা হাত রাখে জলে; ঢেউ যেন তার তালুতে উত্তর স্পন্দিত করে।
তৃতীয় দৃশ্য: লখিন্দরের ছায়া ফিরে আসে
রাত্রির আরম্ভ। নদীর বুকে প্রতিফলিত নক্ষত্রপ্রভা।
এক কণ্ঠ:
"বেহুলা—"
সে তাকায়, চমকে ওঠে, আবার থেমে যায়।
বেহুলা:
"না, এ কেমন ডাক! আচ্ছা, এখনো কি হৃদয় ভ্রম তৈরি করতে জানে?"
লখিন্দর (নরম কণ্ঠ):
"না, এটি কোনো ভ্রম নয়। আমি তোমার নিঃশব্দের ভিতরেই বন্দি ছিলাম।
তুমি যেভাবে প্রতিদিন নদীর ধার ডেকে বলেছো আমার নাম—
সেই ডাকই আমাকে ফিরিয়ে এনেছে কুয়াশার ভেতর থেকে।"
বেহুলা:
"তুমি বদলে গেছো। অথচ দেখো, চোখ দুটি এখনও সেই চিরচেনা আলো—
যেখানে আমার সকাল জেগে ওঠে, আর রাত্রি ঘুমিয়ে পড়ে।"
লখিন্দর:
"তুমি কি আবার আমাকে আঁকড়ে ধরবে আগের মতো?"
বেহুলা:
"না, এবার নয়। এবার তোমাকে রাখব বাতাসে, কথায়, নিঃশ্বাসে—
যেখানে স্পর্শের প্রয়োজন থাকে না, তবু অনুভব নিরন্তর।"
চতুর্থ দৃশ্য: স্মৃতির ঘূর্ণি
লখিন্দর:
"স্মরণ আছে, প্রথম বর্ষা? তুমি বলেছিলে,
বৃষ্টি নামলে আকাশও তোমার মতো ভিজে যায়।
আমি হাসতাম, কারণ বৃষ্টি তখন তোমাকে ছুঁয়ে আমাকেও ভিজিয়ে দিত।"
বেহুলা:
"ওই হাসিটাই আজ আমার বেঁচে থাকার সুর।
সবাই বলে আমি দেবী, অথচ আমি জানি—
আমি এক ব্যর্থ প্রেমিকা, কিন্তু সেই ব্যর্থতাই আমার বেঁচে থাকা।"
লখিন্দর:
"তবুও তুমি বেঁচে আছো, সেটাই তো জয়।
কারণ ভালোবাসা কখনও মৃত্যুর অনুগত নয়।"
বেহুলা:
"তুমি চলে গিয়ে শিখিয়েছো, শরীরবিহীন ভালোবাসাই আসল স্থায়িত্ব।
যে গন্ধ থাকে, যে বায়ু স্পন্দিত করে অদেখা নাম।"
পঞ্চম দৃশ্য: আত্মার সেতু
আলো জ্বলে ওঠে— প্রদীপের দপদপ আঁধারে মুখ দুটি আলোকিত।
বেহুলা:
"আজ আমি আলো জ্বালালাম তোমার নাম নয়, তোমার অস্তিত্বের জন্য।
তুমি যে আমার ঘুমে আলো, নিঃসঙ্গতায় শব্দ—
তোমাকে আজ মুক্ত করছি আমার প্রার্থনার মধ্যে।"
লখিন্দর:
"মুক্তি মানে আলাদা হওয়া নয়, বেহুলা।
মুক্তি মানে— প্রেম যখন জল হয়ে যায়, আকাশ ছুঁয়ে যায়।
তুমি হাসলে আমি আলো হই, তুমি কাঁদলে আমি স্রোত।"
বেহুলা:
"তুমি আমার নদী, আমি তোমার তীর।
তোমার ঢেউ যদি দূরে যায়, আমি তবুও তোমায় জড়িয়ে থাকব কূলে, অদৃশ্য বন্ধনে।"
ষষ্ঠ দৃশ্য: বৃদ্ধার আগমন
গ্রামের দিক থেকে বৃদ্ধা আসে, তার হাতে প্রদীপ ও ফুল।
বৃদ্ধা:
"বেহুলা, তুমি প্রতিদিন বসে থাকো নদীর ধারে।
কার অপেক্ষায়?"
বেহুলা:
"যার ফিরে আসার কথা কেউ বিশ্বাস করে না।
ভালোবাসা, মা— যে ফিরে আসে অন্য সময়, অন্য আলোয়।
দেখো, এই জলে আজও তার নাম ঝিলমিল করে।"
বৃদ্ধা:
"যার ভালোবাসা নদীর মতো— সে তো কখনও হারায় না।
প্রদীপ ভাসাও, মা, দেখো স্রোত নেবে সেই আলো—
স্মৃতি মিলবে অনন্তে।"
(বৃদ্ধা প্রদীপ রাখে নদীতে। বেহুলা চুপচাপ)
সপ্তম দৃশ্য: পুনর্জন্ম ও প্রতিশ্রুতি
রাত্রি গভীর। আকাশে ডাঙা তারার মতো নদীও জ্বলজ্বল করে।
বেহুলা:
"তুমি কি জানো, লখিন্দর, আজ তোমাকে বুঝি আগের চেয়ে বেশি।
তোমার অনুপস্থিতিই আসল উপস্থিতি হয়ে গেছে আমার জীবনে।"
লখিন্দর:
"মৃত্যু মানেই শেষ নয়।
প্রেম যদি নিঃশেষ হত, তাহলে এই নদী কি প্রতিদিন জেগে উঠত তোমার নামে?"
বেহুলা:
"তাহলে পরের জন্মে আমরা হবো এক প্রাণ—
অন্য মুখ, অন্য সময়, অন্য কণ্ঠে— কিন্তু একই সুরে।"
লখিন্দর:
"তুমি চিনে নেবে আমাকে—
কারণ যেখানেই ভালোবাসা থাকবে, সেখানে আমি।"
(বেহুলা নিরবতাকে আলিঙ্গন করে থাকে)
অষ্টম দৃশ্য: ভোরের দিকে
ভোরের আলো; নদী সোনালি। বাতাসে নতুন দিনভোরের গন্ধ।
নদী (চুপিসারে):
"বেহুলা, এখন সময়। আলো ফিরেছে। তোমার হৃদয়ও এবার আলো দিক।"
বেহুলা:
"আজ থেকে নদীই আমার আত্মা।
তুমি তার সুর, আমি তার নীরবতা।
তুমি বয়ে চলো, আমি থাকব অচঞ্চল— একে অপরের পূর্ণতায়।"
(বেহুলা ধীরে চলে যায়। পেছনে নদীর জলে প্রদীপ ভাসছে, সূর্য উঠছে ধীরে ধীরে।)
বেহুলার ভেসে আসা কণ্ঠ:
"লখিন্দর, নদী এখনও বয়ে চলে।
প্রেম এখনও জেগে আছে।
যে বেঁচে থাকার নাম বেহুলা—
সে আজও তোমার পথে জলে আলোর রেখা বোনে।"
নদীর পাশেই বেহুলা বসে থাকে, চোখে অজস্র স্মৃতির ঝরনা।
তার অন্তর যেন এক অন্ধকার গোলক, যেখানে লখিন্দরের ছবি অবিরাম জ্বলে।
প্রতিটি শ্বাসে তার বেদনা গাথা, একটি নিঃসঙ্গতার সুরালো গান।
কখনো অশ্রু নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে মিশে যায়, কখনো নিঃশব্দে বাতাসে হারায়।
তার মনে পড়ে সেই দিনগুলো, যখন সে ছিলো তার প্রিয়।
লখিন্দরের হাসি ছিলো তার বিশ্বাসের আলো,
তাঁর স্পর্শ ছিলো বসন্তের ফুলের কোমলতা।
কিন্তু আজ, সেই আলো নিভে গেছে, শুধু ভোরের ঘুম বাকি।
কষ্টের নীড় আজ তার বুকের ভেতর, তবুও সে ভেঙে পড়েনি।
বিরহের গভীরে বাঁধা সেই প্রেম শুধু চেনা সেই নদীর মতো—
অবিচলিত, অম্লান, নিঃশেষ।
সে জানে, ভালোবাসা মরেও মরে না—প্রেমের অমরত্ব তার একমাত্র আশ্রয়।
বেহুলার কান্না নদীর পানিতে ঢেউয়ের মৃদু ছোঁয়া,
তার বেদনা যেন সমীরণের গভীর গোপন কথা।
লখিন্দরের অনুপস্থিতি তাকে শূন্যতার কাছে নিয়ে যায়,
কিন্তু তার হৃদয়ে আজো বাজে সেই প্রেমের অম্লান সুর।
সে স্মরণ করে বলেছিল যেমন, “তুমি আমার জীবনের শেষ আলো,”
তাকে ছাড়া বাকি সব যেনো নিস্তব্ধ অন্ধকারের পাখি।
তার আত্মায় প্রেমের আগুন জ্বলতে থাকে, কখনো ফুরাতে চায় না,
বেহুলার শোনার আশায় জীবনের প্রতিটি সন্ধ্যা পূর্ণ হয়।
জীবন নীরব আবেগের ভেতর রঙ ধরে।
তাই সে বসে থাকে নদীর কিনারে, চেয়ে থাকে সেই অদৃশ্য মুখের পথ।
বেহুলার অন্তর থেকে কেবল একটি ডাক উঠে—
“লখিন্দর, ফিরো, এই মন তোমার অপেক্ষায় পলক ঝাপসা।’
সে জানে, তার প্রেম শুধু স্মৃতির স্রোত নয়,
একটি চিরস্থায়ী সেতু, যা তার ও লখিন্দরের মাঝে বাঁধা।
মৃত্যু করেও বিচ্ছেদ মুছে দেয়নি সেই বন্ধন,
বেহুলার হৃদয় থেকে প্রেমের চিহ্ন কখনো যাবে না দূরে।
কখনো কখনো, সন্ধ্যার হালকা বাতাসে সে শুনতে পায়,
লখিন্দরের কণ্ঠস্বর ভেসে আসে দূর থেকে—নিরব স্থলে।
তার হৃদয় নিয়ে যায় সেই কথার কাব্যে,
যেখানে ভালোবাসার ভাষা শুধু চোখের অশ্রু বলে বুঝে।
বেহুলার বেদনা তার ভালোবাসার একান্ত সাক্ষর,
প্রেম ও কষ্টের মিলনে তার জীবন গড়ে উঠে সুর ও শব্দে।
তাকে হারানো মানে ছিলো শুধু শরীরের স্বরবর্ণ নষ্ট হওয়া,
কিন্তু আত্মার নৃত্যে ছিলো চিরন্তন প্রেমের অলিখিত কথা।
এই একাকীত্বই তার সঙ্গী, এই বিরহই তার গান,
যা ধীরে ধীরে তার কণ্ঠ থেকে বুকে ঢুকে যায়।
বেহুলা জানে, সে মরলেও প্রেম তার ইতিহাসে আঁকা থাকবে,
নদীর প্রতিটি ঢেউয়ে গাঁথা থাকবে তার ভালোবাসার গল্প।
আর তাই সে আজো বসে আছে, সেই নদীর পারে—
হৃদয়ে বিরহের আগুন, চোখে প্রেমের জ্বলন্ত আগুন।
বেহুলা যুদ্ধে জয়ী, সে নিজের বেদনায় দাঁড়িয়ে থাকে,
প্রেমের নীরব বাণীর মতো, চিরন্তন এক অমলিন আশায় ভরে।
আমি জানি, কিছু হয়ে যায় না।
প্রতিটি আশা, প্রতিটি স্বপ্ন, যেন আঁধার בו ডুবে যায়।
আমি তার থেকেও জানি, তার দীর্ঘ পথ ছেড়ে এসেছি আমি—
নিজের অন্ধকারে, নিজের সুরে, নিজের শ্বাসে।
সেই দিনগুলো মনে পড়ে, যখন প্রেম ছিলো আমার অস্তিত্বের মূল,
অন্তর ভিতরেও এক উজ্জ্বল আলো, এক অদ্ভুত ভরসা—
আজ সবই নিঃসঙ্গতার রূপে রূপান্তরিত,
নদীর ওই বুকের মতো, যেখানে শূন্যতা ভাসে।
পলকে পলকে মনে হয়—
প্রেম কি শুধুই কিছু মুহূর্তের আয়োজন,
অথবা, এই বিষাদের শেষের প্রথম সূর্য?
অথবা এই অশ্রুর মতো চিরন্তন ভাবনা—যা কখনো মিথ্যা হয় না?
আমি ভাবি, প্রেমের এই অগ্নি কি শেষ হয়ে গেছে?
অথবা, আমি এখনও সেই পরপুরুষের ইশারার অপেক্ষায় আছি,
যে আমাকে ফিরিয়ে আনবে আবার অন্য এক জলরাশির মাঝে?
একটাই জানি, আমার হৃদয়ে লুকানো এক বিন্দু আশা—
প্রেমের সেই চিরন্তন অঙ্গীকারে বাঁধা।
তারা বলে, "হলো না",
তার অর্থ কি আমি বুঝি?
তুমি কি মনে করো, এই প্রেমের বেদনাগুলো ফুরিয়ে যাবে?
অথবা, এই শূন্যতায় জেগে উঠবে নতুন এক সকাল?
আজো আমি ভাবছি,
প্রেম কি কেবল এক প্রহর বা এক মুহূর্তের নিঃশ্বাস?
অথবা, এটা এক জীবন, এক স্বপ্নের রঙিন সমুদ্র?
যেখানে আমি থাকি—অন্যের আশা নিয়ে,
অন্যের প্রতিজ্ঞায় বন্দী?
মনের গহীনে একটা সত্যি শব্দ আসে—
অবশ্যই, আমি আরও প্রেম করতে চাই,
অথবা এই প্রেমের বেদনা দিয়েই মরতে চাই।
তবুও, এই অপেক্ষা, এই অঝোর দীর্ঘশ্বাস,
একটুকু শান্তি আনে না, যেনো নদীর পানির মতো,
প্রেমের জল কখনো ঠেকায় না, আবার হারায়ও না।
আমি কি ভুলে গেলাম তার চিরন্তন স্মৃতি?
আমি কি বললাম, "হলো না"— সত্যিই?
নাকি, এই "হলো না" নিয়েই আমি বেঁচে আছি,
অসংখ্য আকাশের নিচে, নিঃসঙ্গতার গভীর নদীতে?
আসলে জানি,
প্রেমের এই অন্তরালে আমি শুধু নিজেকে খুঁজে থাকি,
নিজের এই কষ্টের মালা, এই বিরহের সুরে।
তাই বলি—
আমি এখনও তার প্রেমের আশায় বসে আছি,
অনন্ত অপেক্ষায়, চির প্রেমের নিরিখে।
অবশেষে, বলতে হয়—
প্রেমের এই অজানা পথটা আমার অন্তরের সবথেকে কাছের।
আর এই পথেই আমি হাঁটি,
প্রেমের বাঁকে বাঁকে, বেদনার নদী গাঁথা।
“আমরা চলে এসেছিলাম একসাথে, স্বপ্নের পথে—
তোমার হাত আমার হাতের মধ্যে দেখে আমি বিশ্বাস করেছিলাম,
এই পৃথিবীটা শুধু আমাদের জন্য বাঁধা,
যেখানে প্রেম আমাদের জীবন, এবং জীবন এক টুকরো প্রেম।
কিন্তু এখন তুমি নেই, এবং আমি আছি এই নীরবতার মাঝে,
নদীর সেই ঠান্ডা জলে আমার সমস্ত আশা ভেসে যায়।
তুমি চলে যেও, কিন্তুকে আমার হৃদয়ের মধ্যে তুমি দেদার বয়ে চলেছ,
যেন সে নদী, যে কখনো থামে না, কখনো হারায় না।
পরপুরুষের কন্ঠ আমার কাছে আসে, হাওয়ার মতো ক্ষীণ, যেমন দূরের একটি স্বপ্ন;
সে বলে, ‘এঁকে נא চলো, সূর্যোদয়ের পথ ধরে ঐ অজানায়—
যেখানে তুমি কষ্ট ভুলে যেতে পারো, তোমার ভালোবাসাকে ছেড়ে দিতে পারো।’
তবে আমার বুকে সেই আগুন এতটাই জ্বলছে, যে সে কথা আমার শ্বাসে ঢুকে পুড়ে।
আমি কি ভুলে যেতে পারি তাকে?
যে আমার জীবন, আমার শেষ কথা?
যে আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে বাস করে, অন্তরের গভীরে মিশে যায়?
না, আমি পারি না। আমার প্রেম তার প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, বন্ধনহীন, অবিচল।
কষ্টের মধ্যে পুষে রাখা ভালোবাসাটা আমার অস্তিত্বের শেষ সঞ্চয়,
আমার কান্না নদীর সঙ্গে মিশে, প্রতিটি ঢেউয়ে তার নাম গেয়ে যায়।
পরপুরুষের ইশারায় আমি কখনো হারাব না আমার সেই প্রেম,
কারণ সে লহমা আমার হৃদয়ে বেঁচে আছে,
অবিনশ্বর একটি আলো, বন্ধনহীন এক অনুভব।
আমি বাঁচি তার জন্য, তার স্মৃতির জন্য,
তাইতো আমি এখনও পৃথিবীর সমস্ত 혼র মাঝে এক নম্বর রেখা ধরে আছি।
যেন এক প্রেমিকা, যে হারিয়ে যাওয়া হৃদয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন,
বেদনা আর ভালোবাসার মাঝে—নীল আকাশের চাঁদের আলোয়।”
বেহুলা থেমে যায়, তার নিঃশ্বাস গভীর, চোখের জল বয়ে যায়—
তবে এক অবিচল আশা জ্বলজ্বল করে, যেন ভোরের আলো নদীর জলে প্রতিফলিত হয়।
সে জানে, প্রেম যতই বেদনার বলয়ে ধরা পড়ুক,
সে বেঁচে থাকবে, ভালোবাসতে থাকবে চিরন্তন এক অঙ্গিকারে।
আমার হৃদয় আজো এক অগ্নিপরীক্ষায় দাঁড়িয়ে,
লখিন্দরের কারাগারে আটকা পড়া সেই জীবন বাঁচাতে হবে—
আমি যেনো ভাঙা শিরায় এক অন্তহীন নদী,
যা প্রতিদিন বয়ে যায় তোমার নামে, তোমার স্পর্শের অমল শুভ্রতায়।
আমি জানি, মৃত্যুর গ্রাস কঠিন, অপ্রতিরোধ্য,
তবুও, আমি প্রতিজ্ঞা করলাম—
যে কোন ভাবেই, যে কোন প্রহরে,
লখিন্দরকে বাঁচিয়ে তুলব আমি, আমার প্রেমের অকুতোভয় ভাষায়।
তুমি যেনো এক নিমিষে হারিয়ে যায়নি,
আমি তোমাকে বাঁচাবো অন্তরাত্মার অশ্রু দিয়ে,
যেন বিষণ্ণ কবিতার প্রতিটি পংক্তিতে বেঁচে থাকে প্রেমের স্পন্দন,
আমি তোমাকে ধরে রাখব সেই প্রেমের আগুনে, যা নিভে না, পুড়ে না কখনো।
আমার শরীর হবে তোমার লড়াকু সঙ্গী,
আমার হৃদয় হবে তোমার মুক্তির কণ্ঠস্বর,
আমি নদীর প্লাবনে তোমার নাম জপব,
প্রতিটি ঢেউয়ে এক এক করে তোমার ক্ষত আরোগ্য হবে।
আমার ভালোবাসায় এত শক্তি বটে,
যা গলাবে মৃত্যুর অচল পর্দা,
আমার না হয় কষ্টের স্রোত বুড়ো নদীর মতো ভাঙবে না,
পরিশ্রমে, প্রতিজ্ঞায় তোমাকে দেব আলো—হাসির দ্যুতি।
আমি তোমার প্রতিশ্রুতিতে বাঁধা, তোমার সুরে স্পন্দিত,
আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার জন্য আগুন জ্বলে, জীবনের স্রোতে ভেসে।
দেখবে, এই প্রেম তোমাকে বাঁচিয়ে রাখবে, আঘাতে আঘাতে তবুও অজস্র শক্তি দেবে,
আর এই শুরু হবে আমাদের পুনর্জন্মের গান, এক নতুন উজ্জ্বল ভোরের ছবি।
তুমি যদি কোনও একদিন থেমে যাও, আমি তোমার হাত ধরব,
জেনে রেখো, আমি পারব, মৃত্যুর অন্ধকারকে চিরতরে দূর করতে।
যেনো বাতাস লইয়া চাঁদের আলো, তোমার নিঃশ্বাস আমি শ্বাস অমৃত বানাবো,
একসঙ্গে পথ চলব—সাগরের ঢেউয়ে সুরের সঙ্গমের মতো অবিচ্ছিন্ন ও গভীর।
আমার চোখে আজো তোমার ছবি ঝলমল করছে,
প্রেমের সেই অমলিন আলো ছাড়া আমার অন্ধকার ভারি।
তাই, প্রতিজ্ঞা করি—আমি তোমায় বাঁচাবো, এই হৃদয়ের প্রতিটি সুরে,
যাতে তুমি ফেরো, হেসে ওঠো, বেঁচে ওঠো এক অমর জীবনের উচ্চশ্বাস।
আমার স্বপ্ন, আমার শক্তি, আমার সারা জীবন,
তুমি যে আমার একাকী বাঁচার কারণ, তুমি যে আমার প্রেমের শেষ অঙ্গীকার।
যে কোন মরণকালে তোমায় বাঁচিয়ে রাখতে হবে—এই আমার একমাত্র যুদ্ধ,
আমার সে যুদ্ধ, আমার সে প্রেম, যা কখনো ঘটনার হৃদয় ছেড়ে যাবে না।
আমি নিজেই হব তোমার জানালা, তোমার বাতাস, তোমার আশ্রয়,
তোমায় বাঁচাতে প্রতিদিন লিখব নতুন এক জীবনের সুর,
যেখানে আমরা দুজনে বাঁচবো অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তির দ্যুতি হয়ে,
ভালোবাসার চিরন্তন দিনে, যেখানে তবু শুধু তুমি আর আমি।
মৃত্যু আমাদের আলাদা করবে না, বরং মিশে যাবে গভীর প্রেমে,
সপ্তসাগর পেরিয়ে দ্বীপের মতো চিরকাল বেঁচে থাকবে তোমার স্পর্শ।
এই জীবনের অন্ধকারে, তুমি আমার একমাত্র আলো, আমি তোমার মুক্তির যেনো সুর,
তাই বলি, যে কোন ভাবেই বাঁচাতে হবে তোমায়—লখিন্দর, আমি স্তব্ধ নই, আমি যুদ্ধ করছি।
আমার হাতে হাত থাকলে, মরণও কাঁপবে,
আমার হৃদয়ের প্রতিশ্রুতিতে তুমি ফের বাঁচবে, প্রত্যেক সকাল হ'ল নতুন শুরু।
আমরা হবো সেই নদী ও তীর, একাত্ম হয়ে প্রবাহিত,
অন্ধকার ভেঙে আলো ছড়িয়ে দিবো, প্রতি নিঃশ্বাসে তোমার মুক্তির গান।
আসো, আমার প্রেম, আমি তোমাকে বাঁচাতে চাই,
পরপুরুষের ইশারাকে অগ্রাহ্য করে, প্রেম ও কষ্টের মাঝেও স্থির ভাবেই দাঁড়িয়ে।
আমার জীবনের প্রতিটি অংশ তোমার নাম জুড়ে গেছে,
এই জীবনের শেষ দিনেও তোমায় বাঁচানোই হবে আমার একমাত্র সাধনা।
এই হলো আমার প্রতিজ্ঞা, আমার বাক্য, আমার হৃদয়ের নিজস্ব কথা,
যায় যাই করুকেও, আমি তোমায় বাঁচাবো, লখিন্দর, আমার প্রেমের স্বপ্ন।
পরের কবিতাগুলি লিখুন
Comments
Post a Comment